
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। মায়ামির স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের দিনে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে ইংলিশরা।
ম্যাচটি নিয়ে খুব বেশি উত্তেজনার প্রত্যাশা না থাকলেও ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শকের সামনে দুই দল উপহার দেয় শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরুষদের ফুটবলে এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। বিদেশের মাটিতে এটিই তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন।
শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলে এগিয়ে যায় তারা। ১৮ মিনিটে রাইসের অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের অ্যাসিস্টে এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১) এবেরেচি এজের পাস থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কোণঠাসা হয়ে যায় ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুটি অ্যাসিস্ট থেকে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। ৫৪ মিনিটে এমবাপের পাস থেকে আরও একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এমবাপের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষে উঠে যান তিনি।
তবে শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ডই। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া ১৯৫৮ সালের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্টে উসমান দেম্বেলে ব্যবধান কমালেও, ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোল পূর্ণ করেন বেলিংহ্যাম, যা এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।
এদিকে সাতটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। তিনি ভেঙেছেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের গড়া ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
অন্যদিকে, ৬ গোল হজম করে লজ্জার এক রেকর্ডও গড়েছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এর আগে কখনোই তারা ৬ গোল খায়নি। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচে ৬৬ বছর পর প্রথমবারের মতো ৬ গোল হজম করল ফরাসিরা।





