
আঃ রাজ্জাক রিয়াদ, রংপুর ব্যুরো
দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, দুধ-মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি, গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন এবং সরকারি রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার দাবি করেও বছরের পর বছর বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই (কৃত্রিম প্রজনন) টেকনিশিয়ানরা। তাদের ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন সেবা চালু রেখে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে সচল রাখতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ উৎপাদিত হলেও সেই শ্রমের ন্যূনতম মূল্যায়ন পর্যন্ত মিলছে না। বরং তিন বছর থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত অনেকে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ অবস্থায় স্থায়ী কর্মসংস্থান, দৈনিক হাজিরা, সম্মানজনক মজুরি ও বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করেছেন শতাধিক টেকনিশিয়ান।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে “বিনা বেতনে তিন থেকে ত্রিশ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর”—এই স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির ব্যানারে রংপুর জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা—এই পাঁচ জেলার তিন শতাধিকের বেশি এআই টেকনিশিয়ান অংশ নেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপপরিচালকের কার্যালয় চত্বরে একই দাবিতে কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া টেকনিশিয়ানদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ, হতাশা ও ন্যায্য পাওনার দাবি। তারা বলেন, কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার মাধ্যমে গবাদিপশুর উন্নত জাত উৎপাদন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো, খামারিদের আয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের এআই টেকনিশিয়ানরাই মূল ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই খাতের অন্যতম প্রধান কর্মীশক্তি হয়েও তারা সরকারি স্বীকৃতি, নিয়মিত বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা—কোনোটিই পাননি।
## “আমরা দেশের সম্পদ বাড়াই, অথচ নিজের ঘরে অভাব”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ে একজন এআই টেকনিশিয়ান শুধু প্রজননসেবা দেন না; তিনি সরাসরি খামারির উৎপাদন, পশুর জাত উন্নয়ন, দুধ-মাংসের বাজার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাদের দাবি, একজন টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে বছরে গড়ে ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ সৃষ্টি হয়। এই সম্পদ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সরকারি রাজস্ব আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেই টেকনিশিয়ানদেরই জীবিকা অনিশ্চিত, সংসার অনিশ্চিত, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, “যারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সহায়তা করছে, রাজস্ব খাতে অবদান রাখছে, তাদেরই যদি ন্যূনতম বেতন না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের উন্নয়নযাত্রায় তাদের অবদান কীভাবে টেকসই হবে?” তারা বলেন, “আমরা বেশি কিছু চাই না, শুধু ডাল-ভাতের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চাই। সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই, পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে চাই।”
## “তিন থেকে ত্রিশ বছর ধরে বিনা বেতনে কাজ করছি”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির নীলফামারী জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম মির। তিনি বলেন,
“বিগত তিন বছর নয়, কোথাও কোথাও ত্রিশ বছর পর্যন্ত আমরা বিনা বেতনে শ্রম দিয়ে আসছি। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কৃত্রিম প্রজনন। এই কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা ছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন কল্পনাই করা যায় না। আমরা মাঠে কাজ না করলে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন হবে না, দুধ-মাংস উৎপাদন বাড়বে না, খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদভিত্তিক অর্থনীতি—সবকিছুর সঙ্গেই আমাদের কাজ সরাসরি জড়িত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা সরকারকে রাজস্ব দিতে সহায়তা করছি, দেশের সম্পদ বাড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের নিজের শ্রমের কোনো মূল্য নেই। কোনো নিয়মিত বেতন নেই, স্থায়ী নিয়োগ নেই, সামাজিক নিরাপত্তা নেই। আমাদের অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাই, কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা বিলাসী কিছু চাই না—শুধু বেঁচে থাকার মতো একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।”
## অতীতে ভাতা মিললেও ২০১৯ সালের পর বন্ধ
আব্দুর রহিম মির বলেন, আন্দোলনের কারণে অতীতে কিছু সময়ের জন্য টেকনিশিয়ানদের সামান্য ভাতা দেওয়া হয়েছিল। তবে তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল এবং টেকসই কোনো সমাধান নয়। তার ভাষ্য, “আগে আমাদের মাসে পাঁচশ টাকা করে তিন বছর দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্দোলনের পর দুই হাজার টাকা করে কিছুদিন ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে সেই ভাতাও বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেছি, আবেদন দিয়েছি, আন্দোলন করেছি; কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।”
তিনি বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর পার করে দেওয়া হয়েছে। কখনও বলা হয়েছে ব্যবস্থা হবে, কখনও বলা হয়েছে ফাইল প্রক্রিয়াধীন, কখনও আবার আউটসোর্সিংয়ের কথা বলা হয়েছে—কিন্তু বাস্তবে টেকনিশিয়ানদের জীবন-জীবিকায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
## “১ জুলাই থেকে কর্মবিরতি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর-আলম মণ্ডল। তিনি বলেন,
“কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে ১ জুলাই থেকে সারা দেশে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। আজ কর্মবিরতির অষ্টম দিন। টেকনিশিয়ানদের কর্মসংস্থান, স্থায়ী সংস্থান, দৈনিক হাজিরা এবং সম্মানজনক মজুরি প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আজ সারা বাংলাদেশের ২৩টি উপপরিচালকের মাঠ প্রাঙ্গণে একই কর্মসূচি চলছে। বহুবার আমরা আন্দোলন করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি, বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছি, উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসও পেয়েছি। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বছরের পর বছর আমাদের সঙ্গে কেবল প্রতিশ্রুতির রাজনীতি হয়েছে। এবার আমরা বাস্তব সমাধান চাই।”
## “আশ্বাস পেয়েছি, বাস্তবায়ন পাইনি”
নূর-আলম মণ্ডল বলেন, অতীতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন দিয়েছি। অনেকবার বলা হয়েছে, সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। আউটসোর্সিংয়ের কথাও বলা হয়েছিল, সেটিও কার্যকর হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের টেকনিশিয়ানরা আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন।”
তার মতে, প্রাণিসম্পদ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবামূলক খাতে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেবল আশ্বাস দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত।
## কৃত্রিম প্রজনন খাতের চালিকাশক্তি হয়েও বঞ্চনার অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতির পেছনে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত জাতের গরু উৎপাদন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো, খামারির আয় বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণে এই খাতের ভূমিকা অপরিসীম। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার মাঠপর্যায়ের প্রধান কর্মী হলেন এআই টেকনিশিয়ানরা।
তাদের দাবি, খামারিদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে, প্রজনন ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে, গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তারা বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সরকারি কাঠামোর বাইরে রেখে, বিনা বেতন বা অপ্রতুল ভাতায় তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে—যা শুধু অন্যায্যই নয়, অমানবিকও।
## পরিবার-সংসার চালাতে হিমশিম, তবু থামেনি মাঠের কাজ
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক টেকনিশিয়ান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত আয় না থাকায় তাদের অনেকের সংসার চরম সংকটে পড়েছে। সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—সবকিছু মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন, কেউ আবার সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবু দায়িত্ববোধ থেকে তারা বছরের পর বছর মাঠে কাজ চালিয়ে গেছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের নানা পরিসংখ্যান ও সাফল্যের গল্পে টেকনিশিয়ানদের অবদানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
## টেকনিশিয়ানদের প্রধান দাবিগুলো
মানববন্ধন থেকে টেকনিশিয়ানরা তাদের কয়েকটি প্রধান দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। সেগুলো হলো,
* দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এআই টেকনিশিয়ানদের *স্থায়ী কর্মসংস্থানের আওতায় আনা।
* দৈনিক হাজিরা চালু ও সম্মানজনক মজুরি প্রজ্ঞাপন জারি।
* বন্ধ থাকা ভাতা ও বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ।
* মাঠপর্যায়ে কর্মরত টেকনিশিয়ানদের জন্য টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন।
* দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারীদের সরকারি কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা।
* কৃত্রিম প্রজনন সেবাকে টেকসই করতে মাঠপর্যায়ের টেকনিশিয়ানদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
## দাবি না মানলে ২২ জুলাই ঢাকায় ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
মানববন্ধন থেকে নেতারা ঘোষণা দেন, তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামী ২২ জুলাই ঢাকায় কৃত্রিম প্রজনন অধিদপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা বলেন, এ কর্মসূচি শুধু রংপুর বিভাগের নয়, সারা দেশের এআই টেকনিশিয়ানদের সম্মিলিত দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ।
বক্তাদের ভাষ্য, তারা সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না; তারা চান ন্যায্য স্বীকৃতি, ন্যূনতম মজুরি, সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা এবং কর্মের নিরাপত্তা। “আমরা বেশি কিছু চাই না—শুধু ডাল-ভাতের স্থায়ী ব্যবস্থা চাই”—মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শত শত টেকনিশিয়ানের কণ্ঠে এই আর্তি বারবার ফিরে আসে।
## দ্রুত সমাধান না হলে মাঠপর্যায়ের সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এআই টেকনিশিয়ানদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মবিরতি চলতে থাকলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন সেবা ব্যাহত হতে পারে। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু টেকনিশিয়ানদের বেতন-ভাতার প্রশ্ন নয়; এটি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের ধারাবাহিকতা ও মাঠপর্যায়ের সেবা ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা এই টেকনিশিয়ানদের দাবি যদি বাস্তবভিত্তিক ও যৌক্তিক হয়, তবে তা দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় একদিকে যেমন শত শত পরিবারের জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়বে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
## “ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা”র দাবি এখন রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
রংপুরের মানববন্ধনে এআই টেকনিশিয়ানদের যে আর্তনাদ শোনা গেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে একটাই কথা দেশের জন্য কাজ করেও কেন তাদের ন্যায্য জীবিকার নিশ্চয়তা নেই? বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে প্রাণিসম্পদ খাতে অবদান রাখা এই কর্মীদের দাবি, তারা কোনো অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা চান না; চান শুধু শ্রমের ন্যায্য মূল্য, একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। এখন দেখার বিষয়, টেকনিশিয়ানদের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কারণ, তাদের ভাষায়—“দেশের সম্পদে অবদান রাখি, কিন্তু নিজের ঘরে ভাত জোটে না”—এই বাস্তবতা আর কতদিন?”





