এমবাপ্পের ঝলকানি: সুইডেনকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

Date:

spot_img

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শক্তির বড় ঘোষণা দিল ফ্রান্স। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩–০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিদিয়ে দেশমের দল। ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুখ কিলিয়ান এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছে গেলেন।

শুরুটা অবশ্য একেবারে সহজ ছিল না। প্রথম আধঘণ্টা ফ্রান্স বলের দখল রাখলেও সুইডেন পাল্টা আক্রমণে কিছুটা বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে ফরাসিরা।

৩০ মিনিটে আদ্রিয়ান রাবিওর জোরালো শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম। এরপর এমবাপ্পের শট পোস্টে লাগে। মাইকেল ওলিজের দুর্দান্ত সিজর কিকও কাঠে প্রতিহত হয়। গোল তখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সেই অপেক্ষা শেষ করেন এমবাপ্পে। কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ওসমান দেম্বেলের পাস পেয়ে ডান দিক থেকে বক্সে ঢোকেন তিনি। সামনে ছিল কয়েকজন ডিফেন্ডার, কোণও ছিল কঠিন। তবু এক ঝলকে জায়গা বানিয়ে বাঁকানো শটে বল পাঠান জালে। বিরতিতে যায় ফ্রান্স ১–০ গোলে এগিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। সুইডেন বল হারানোর পর অরেলিয়েন চুয়ামেনি দ্রুত বল দেন মাইকেল ওলিজেকে। ওলিজে নিখুঁত পাস বাড়ান ব্র্যাডলি বারকোলার সামনে। বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালের ছাদে পাঠান বারকোলা।

এরপর ম্যাচে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সৌন্দর্য। ওলিজে কখনও ডান দিক, কখনও মাঝমাঠ, কখনও আবার আক্রমণের গভীরে নেমে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তার পাস, বল কন্ট্রোল ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতায় বারবার বিপদে পড়ে সুইডেনের রক্ষণ।

৭৪ মিনিটে আবারও ওলিজে–এমবাপ্পে জুটি। ওলিজের মাপা পাস ধরে দৌড়ে ওঠেন এমবাপ্পে। এরপর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বাঁকানো শটে করেন নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল। এই গোলেই ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশম বলেন, দলের খেলোয়াড়রা এই মানসিকতা ও একাগ্রতা ধরে রাখতে পারলে সামনে ভালো কিছু সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, সামনে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন হবে, তাই কিছু বিষয়ে আরও উন্নতি করতে হবে।

প্রথম গোলের পর ফরাসি ফুটবলাররা দেশমকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন। গত সপ্তাহে মাকে হারানো কোচের প্রতি দলের এই সংহতি ছিল ম্যাচের আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি। এমবাপ্পে পরে বলেন, একে অপরের পাশে থাকা এই দলের ডিএনএর অংশ।

সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটারও ফ্রান্সের শক্তি স্বীকার করেছেন। তার মতে, মাঠের পুরো প্রস্থ ব্যবহার করতে পারে ফ্রান্স। দুই প্রান্তে মানসম্পন্ন ফুটবলার, মাঝখানে বিপজ্জনক স্ট্রাইকার, আবার রক্ষণ থেকেও খেলা গড়ার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে এমন দলের বিপক্ষে লড়াই করা কঠিন।

এই জয়ে ফ্রান্স শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেনি, শিরোপার দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। আর এমবাপ্পের গোল আর ওলিজের সৃষ্টিশীলতা বলে দিচ্ছে, নকআউট পর্বে ফরাসিদের থামানো সহজ হবে না।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...