
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ফিরদৌস ইসলাম (২২) নামে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাবনাময় এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে।
নিহত ফিরদৌস ইসলাম উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে একজন। স্থানীয়ভাবে তিনি শান্ত-স্বভাব, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহত ফিরদৌস স্থানীয় একটি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। ফিরদৌস লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের ছিল অনেক স্বপ্ন। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরেও ফিরদৌস বাড়ির কাছাকাছি একটি জলাশয়ে মাছ ধরতে যান। সে সময় আকাশে মেঘ জমে এবং হঠাৎ করেই বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। সেখানে তার মৃত্যু হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তার লাশ উদ্ধার করে। ফিরদৌসের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। মুহূর্তেই শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করেন। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্বজনদের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা জানান, ফিরদৌস অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও সবার প্রিয় একজন তরুণ ছিলেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
সহপাঠীরা জানান, ফিরদৌস নিয়মিত ক্লাস করতেন এবং পড়াশোনায় আন্তরিক ছিলেন। তার মৃত্যুতে বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়লেও অনেকেই জীবিকার তাগিদে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনের কারণে মাঠ ও জলাশয়ে কাজ করতে বাধ্য হন। ফলে প্রায় প্রতিবছরই এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তারা বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষায় আরও কার্যকর সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর এলাকায় বজ্রপাতে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, বর্ষাকালে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, নদী, বিল কিংবা গাছের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া খারাপ হলে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। বর্ষা মৌসুমে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত শুরু হলে খোলা জায়গা, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করে নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ফিরদৌস ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু সেই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।





