
মাইন উদ্দিন খান, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ। স্বাধীনতার দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই মহাবিদ্যালয়টিতে —-জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। প্রতিষ্ঠালগ্নে কলেজের নিজস্ব জমি না থাকায় গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌর চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় অংশে পাঠদান শুরু হয়। অথচ ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের কয়েকটি ভবনের বেহাল দশা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই খসে পড়ে পলেস্তারা। দেয়াল, ছাদ ও পিলারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল,দেবে যাওয়া দেওয়াল, ভাঙা জানালার কাচ,কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং কক্ষজুড়ে জমে থাকে বৃষ্টির পানি।
প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিদর্শনে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও কলেজের পুরোনো ভবনে চলছে পাঠদান ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে ব্যবহার অনুপযোগী বলে মত দিলেও তা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
ঐ কলেজেের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী বলেন- ভবনের বেহাল দশা এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে ক্লাস করতে গেলেই মনে ভয় কাজ করে৷ যেকোনো সময় আমরা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত অতি শীঘ্রই এর সমাধান করা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক কলেজের দুইটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। এই ভবন দুইটিকে যথাযথ সংস্কার করার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুব্রত বরণ বড়ুয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান এবং পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন এ বিষয়ে তিনি অবগত নন, যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-বাণিজ্য ও কলা ভবনে নিয়মিত টেস্ট পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আমাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। কলেজ প্রশাসনের উচিত এ ভবন দুইটি পরিহার করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এদিকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।





