
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
মারাকানার গ্যালারি তখনও কাঁদে।
১৯৫০ সালের সেই বিকেল ব্রাজিল ভুলতে পারেনি। নিজের মাঠে বিশ্বকাপ প্রায় হাতে এসেও উরুগুয়ের কাছে হেরে গেল তারা। রেডিওর শব্দ থেমে গেল। রাস্তায় উৎসবের বদলে নেমে এলো নীরবতা। আর সেই নীরবতার মধ্যে দোষ পড়ল একটি জার্সির ওপর।
সাদা জার্সি।
অনেকে বলতে লাগল, এই সাদা পোশাকই অমঙ্গল ডেকে এনেছে। ফুটবল তো শুধু খেলা নয়, ব্রাজিলে তা বিশ্বাসের মতো। তাই বিশ্বাস ভাঙলে মানুষ কারণ খোঁজে। কেউ খোঁজে খেলোয়াড়ে, কেউ কোচে, কেউ ভাগ্যে। ব্রাজিল খুঁজে পেল জার্সিতে।
তারপর একদিন দেশের মানুষের সামনে রাখা হলো নতুন প্রশ্ন—ব্রাজিলকে কোন রঙে দেখা যাবে?
এক তরুণ আঁকলেন হলুদ জার্সি। তাতে ছিল দেশের পতাকার আলো। সবুজ কলার, নীল শর্টস, সাদা মোজা। যেন মাঠে নামছে শুধু ১১ জন ফুটবলার নয়, নেমে যাচ্ছে পুরো ব্রাজিল।
প্রথমে কেউ জানত না, এই হলুদ একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত ফুটবল রং হয়ে উঠবে। কেউ জানত না, এই রঙের ভেতর দিয়েই হাঁটবেন পেলে, গারিঞ্চা, জিকো, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো, নেইমার, ভিনিসিয়ুসরা।
একটি হার থেকে জন্ম নিয়েছিল একটি রং।
আর সেই রং পরে ব্রাজিল শিখিয়েছে—কখনও কখনও পরাজয় শুধু চোখের জল রেখে যায় না; রেখে যায় নতুন পরিচয়ও।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]





