
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। পরে শনিবার সকালে আরাবসালিম শহরে আরও একটি হামলায় তিনজন নিহত হন। এছাড়া দেইর আল-জাহরানি ও দুয়েইর শহরে পৃথক ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে হামলার ঘটনায় ওই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার হিজবুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ লেবাননে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন বলে জানা যায়।
এ ঘটনার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতিমার বেন গাভীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “সমগ্র লেবাননকে জ্বলতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, একজন ইসরায়েলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর জন্য হাজারো লেবাননি মাকে কাঁদতে হবে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো হিজবুল্লাহর সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত, ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।





