
আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ), রংপুর
মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মাদক নির্মূল সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “মাদকমুক্ত জীবন গড়ি, ইসলামী অনুশাসন মেনে চলি” স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গত ১৭ জুন বুধবার রাতে উপজেলার ৮ নম্বর রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, যুব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৮ নম্বর রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, মাদক আজ সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার এবং সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রামনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর আলম প্রামাণিক বলেন, মাদক একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রামনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর শামসুল হক বলেন, ইসলামের শিক্ষা মানুষকে সকল ধরনের অন্যায়, অপরাধ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নেরও অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। আজ যারা মাদকে আসক্ত হচ্ছে, তারাই আগামী দিনের কর্মক্ষম জনশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদক নির্মূলে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মাহাবুবুর রহমান বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বাড়াতে হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে মাদকের পাশাপাশি জুয়া, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অপরাধ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানের শেষে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা মাদক নির্মূলে জনমত গঠন, সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।





