
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
চোর সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালিন ভাংচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও মোটরসাইকেল।
সোমবার (১ জুন) রাতে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘরকান্দা গ্রামের-বেপারীপাড়া এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত, ওহাব গাজী (৬০), জালাল গাজী (৪৫), খলিল গাজী (৪৮), আরিফুল গাজী (৩০), জলিল গাজী (৪৬), ছনিয়া খানম (১৯), মাজেদা বেগম (৪৫), হান্নান বরকতউল্লাহ (৫৫), মুকুল মুন্সী (৪৮), অলি বরকতউল্লাহ (৩৫), তাওসীন বরকতউল্লাহ (৩০), হানিফ শেখ (৪৫), হাবিব মুন্সী (৪২) ও জাহিদুল বরকতউল্লাহ (৩৮)। তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া ও ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়াকে আটক করে। তারা তাদের বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয়ে আটকে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠিগা ও চিতশীর গ্রামের লোকজন মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয় ভাঙচুর করে আট তিন যুবককে ছিনিয়ে নেয়। এরপর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে একে অপরের ইটপাটকেলের আঘাতে কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। এসময় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও মোটরসাইকেল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা জানান, আমাদের বেপারীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুলাহ এই তিনজন মিলে ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ খবর জানার পরে আমরা এই তিন চোরকে আটক করে আমাদের কার্যালয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেই। পরবর্তীতে কাঠিগা-চিতশীর লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ওই তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
কাঠিগা-চিতশী গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা কাউকে মারধর করিনি। আমাদের লোকজনকে তারা মারধর করে আহত করেছে।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুলাহ মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লার তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন। অভিযোগ করে তারা বলেছেন, মাদক বিরোধী কমিটির নামে মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লাসহ আরো অনেকে মাদক বিরাধী কমিটির সাইনবোর্ড়ে ব্যাক্তিগত শত্রুতা হাসিল করছে।





