
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানায় চাঁদাবাজি, মারধর, টাকা ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মধ্যনগর উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ময়নাল খান।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মো. ময়নাল খান এলজিইডি প্রকল্পের রাস্তার কাজের ম্যানেজার ও আয়-ব্যয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আজিজুল, পিতা কুরবান আলী সাদু এবং দিলসাদ, পিতা আব্দুল মজিদসহ আরও ৪/৫ জন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজের সাইডে থাকা প্রায় ৪০ বস্তা সিমেন্ট ও রড চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনার দিন গত ২২ মে ২০২৬, রোজ শুক্রবার রাত অনুমান ৯টা ৩০ মিনিটে অন্তরপুর গ্রামের সরকারি রাস্তার পাশে নতুন চালাই কাজ চলাকালে অভিযুক্তরা সেখানে মদখেয়ে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে নতুন করা রাস্তা পা দিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. আজিজুল বাদীকে শার্টের কলার ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। বাদীর ডাক-চিৎকার শুনে সাক্ষীরা এগিয়ে এলে ২ নম্বর অভিযুক্ত দিলসাদ হাতে থাকা কাঠের রোল দিয়ে সাক্ষী হানিফ মিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে হানিফ মিয়ার মাথার বাম পাশে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বাদীকে মারধর করার পর ২ নম্বর সাক্ষী আলম নুর মিয়া ঘটনা জানতে গেলে তাকে মারধর করে শার্টের বুক পকেটে থাকা কোরবানির গরু কেনার জন্য রাখা নগদ ৮৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেছেন, “একলা পেলে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখবে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ময়নাল খান নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। চিকিৎসাজনিত কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন কার্তিকপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মো. আফাজ মিয়া, দাতিয়াপাড়া গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে আলম নুর,মিয়া, এবং দাতিয়াপাড়া গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





