
পটিয়া (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর উপজেলাজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ১২০টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৬১৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ২৬ হাজার ৭১৬টি ষাঁড়, ৩ হাজার ৮৫০টি মহিষ, ৬ হাজার ৫৪৯টি বলদ, ২ হাজার ১২০টি গাভী, ১৬ হাজার ১১০টি ছাগল এবং ৪ হাজার ৩৯০টি ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের খামারেও এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে পটিয়া উপজেলায় অস্থায়ী পশুরহাট হিসেবে ৮টি হাটের প্রস্তাব করা হয়েছে। হাটগুলো হলো— পটিয়া পৌরসদরের পুরাতন থানাহাট, কমল মুন্সির হাট, আমজুরহাট, সফর আলী মুন্সিরহাট, মনসার টেক বাজার, শরৎ মহাজন হাট, শান্তির হাট ও অলি হাট।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “এবারের ঈদকে সামনে রেখে আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান ও নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে, বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করেছি এবং বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম কাজ করবে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
তবে পশুর পর্যাপ্ততা থাকার পরেও খামারিদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাজার পরিস্থিতি, ক্রেতা সংকট ও বাইরের পশু প্রবেশ নিয়ে অনেক খামারি শঙ্কায় রয়েছেন।
পটিয়া ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কপিল বলেন, “খামারিরা এবার অনেক আশা নিয়ে পশু প্রস্তুত করেছেন। তবে বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে এবং বাইরের অবৈধ পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করলে খামারিরা তাদের ন্যায্যমূল্য পাবেন।”
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, “কোরবানির পশুর হাটগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাটে নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে পশু মোটাতাজাকরণ বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





