
সালাউদ্দিন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে।
ধারাবাহিকতায় বুধবার (২০ মে) গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় বাটনাতলী উচ্চবিদ্যালয়ে ১টি স্পোর্টস ক্লাব, ১টি কম্পিউটার ক্লাব উদ্বোধন করা হয়েছে।
পাশাপাশি দূর্গম আসালং পাড়া এলাকায় সুপেয় নিরাপদ পানির পয়েন্ট স্থাপনের উদ্বোধন করেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল ইসমাইল শামস আজিজি,পিএসসি,জি ।
গত (১৮ মে ) চট্টগ্রাম জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) বাটনাতলী আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
সে সময় স্থানীয়রা এলাকার বেশ কিছু সমস্যার কথা জিওসির কাছে তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি এবং সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জিওসি তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন এবং সিন্দুকছড়ি জোনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
জিওসির সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাত্র তিন দিনে সিন্দুকছড়ি জোন সফলভাবে এই মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ক্লাবে ৩টি ফুটবল, ২টি ভলিবল, ১টি ভলিবল নেট, ২টি ক্যারম বোর্ড, ২টি দাবা বোর্ড এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে ৩০ সেট করে (মোট ৬০ সেট) খেলার জার্সি প্রদান করা হয়। এসময়ে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার শিক্ষার্থীদের সাথে ভলিবল ও ফুটবল খেলায় অংশ নেয় । এতে স্থানীয়দের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।
বাটনাতলী উচ্চবিদ্যালয় কম্পিউটার ক্লাব এলাকার শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আনুষঙ্গিক সকল সরঞ্জামসহ ২টি আধুনিক ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ২টি কম্পিউটার ডেস্ক দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে আসালংপাড়ার পুরোনো ওয়াটার পয়েন্টটি সম্পূর্ণ সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে সেখানে নতুন সোলার প্যানেল, নতুন সাবমার্সিবল পানির পাম্প স্থাপন এবং আগের গভীর নলকূপের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এছাড়াও, বাটনাতলী উচ্চবিদ্যালয় শৌচাগার মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে বলে জোন সূত্রে জানা যায়।
অনুষ্ঠানগুলো সফল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সিন্দুকছড়ি জোন সকল ধরনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সেনাবাহিনীর এমন দ্রুত ও কার্যকর মানবিক উদ্যোগে এলাকার শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের উপকারভোগীরা গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের প্রতি তাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।





