
খুলনা থেকে রাজিবুল ইসলাম রাজিব
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোর প্রায় ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর মুহূর্তেই হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পোস্ট-অপারেটিভ ও আইসিইউ এলাকা। আতঙ্কে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন।
অগ্নিকাণ্ডে মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তৃতীয় তলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেতর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পরে মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করে আনা হয়। আইসিইউর কয়েকজন রোগীকেও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, দুইজন নার্স ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন নার্সকে ভবন থেকে নামানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো রোগী হতাহত হননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, ভোর ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়।
তিনি বলেন, “চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। ভবনের সব গেটে তালা থাকায় শুরুতে উদ্ধারকাজে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হয়। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রথমেই আমরা বারান্দা থেকে চার থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করি। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে পুরো ভবন তল্লাশি করা হয়। আর কোনো হতাহত পাওয়া যায়নি।”
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, বেশিরভাগ মানুষ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। অনেকে রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হাসপাতালের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।





