
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ জন শিশু। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশু সুস্থ হয়ে উঠলেও হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই মারা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতে দেশের সব হাসপাতালে “হাম কর্নার” চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। তারা বলেন, হামের বিস্তার রোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিশু মৃত্যু এখনও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে চিকিৎসার আশায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ছুটে আসছেন অভিভাবকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমণশীল একটি রোগ হলেও অধিকাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
তারা আরও জানান, হামজনিত নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী জটিলতা। তাই শিশুদের শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা ফুসফুসজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৩ শতাংশ শিশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের আশা, টিকাদানের এই অগ্রগতির ফলে ধীরে ধীরে হামের সংকট নিয়ন্ত্রণে আসবে।





