ভ্যাটের জাল গ্রামে

Date:

spot_img

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাটের আওতায় আনার কথা ভাবছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত “টোকেন” ভ্যাট চালুর চিন্তা আছে। পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ট্রেড লাইসেন্সের জন্য বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রের রাজস্ব দরকার, এ কথা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু রাজস্ব সংগ্রহের নামে যদি গ্রামের ছোট দোকানি, হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাড়ার মুদি দোকানদার বা অল্প পুঁজির উদ্যোক্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেটি ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলবে। শহরের বড় কর ফাঁকিবাজ, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, খেলাপি ঋণগ্রস্ত গোষ্ঠী এবং অপ্রদর্শিত সম্পদের মালিকদের যথাযথভাবে করের আওতায় না এনে যদি প্রথমে দুর্বল অর্থনৈতিক শ্রেণির দিকে হাত বাড়ানো হয়, তবে তা রাজস্ব নীতি নয়, বরং সহজ লক্ষ্য বেছে নেওয়ার প্রবণতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনবিআর ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত “টোকেন” ভ্যাট বিবেচনা করছে। অঙ্কটি কাগজে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বহু গ্রামীণ ব্যবসার দৈনিক মুনাফা খুবই সীমিত। বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া, পরিবহন খরচ, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার চাপ সামলে এই ব্যবসায়ীরা টিকে থাকেন। তাদের ওপর নতুন ভ্যাট চাপলে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা ভোক্তার ঘাড়েই যাবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ট্রেড লাইসেন্সের জন্য বিন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার মধ্যেও ইতিবাচক দিক আছে। এতে ব্যবসার হিসাব দৃশ্যমান হতে পারে, অর্থনীতি আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আসতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রস্তুতি ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নিলে হয়রানি বাড়বে। গ্রামের ব্যবসায়ীরা কি সহজে বিন নিতে পারবেন? অনলাইন নিবন্ধন, কাগজপত্র, অফিসে যাতায়াত, দালালচক্র, জরিমানা ভীতি এসব প্রশ্নের উত্তর আগে দিতে হবে।

রাষ্ট্র যদি গ্রামে ভ্যাট নিতে চায়, তবে আগে গ্রামে সেবা পৌঁছাতে হবে। রাস্তা, বাজার অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল সহায়তা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং হয়রানিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত না করে করের জাল বিস্তার করলে তা উন্নয়নবান্ধব হবে না। রাজস্ব বাড়ানোর পথ আছে, তবে তা হতে হবে ন্যায্য, ধাপে ধাপে এবং সক্ষমতা বিবেচনায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে করদাতা বানানোর আগে তাকে টিকে থাকার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রের হিসাব মিললেও মানুষের জীবনযাত্রার হিসাব আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...