বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কড়াকড়ি, খুলনায় রাতভর মেলা—কেডিএ অনুমোদনে বিতর্ক

Date:

spot_img

এম রোমানিয়া

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। খুলনা নগরীতেও পুলিশি তৎপরতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে। তবে এই কঠোরতার মধ্যেই কেডিএ’র ময়ূরী আবাসিক এলাকায় আয়োজিত ‘বৈশাখী উৎসব’ নামের ১০ দিনের মেলা ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলেও মেলায় সন্ধ্যার পর থেকে আলোকসজ্জা, দোকানপাট ও সাংস্কৃতিক আয়োজন গভীর রাত পর্যন্ত চলমান থাকছে। এতে একদিকে বিদ্যুতের অপচয়ের প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) ময়ূরী আবাসিক এলাকায় ১০ দিনের বৈশাখী উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেয়। আয়োজনে বয়রা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন। দিনের বেলায় মেলাটি তরুণ-তরুণীদের আড্ডাকেন্দ্র এবং রাতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখর থাকছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকাল বিবেচনায় নগরীর অন্যান্য স্থানে মেলার অনুমতি সীমিত করা হয়েছে, সেখানে আবাসিক এলাকায় এমন আয়োজন কীভাবে অনুমোদন পেল?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুরূপ মেলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে প্রশাসন নিরুৎসাহিত করে। এমন প্রেক্ষাপটে কেডিএ’র অনুমতি নিয়ে জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

কেডিএ’র এস্টেট অফিসার সাহানা তাবাসসুম বলেন,
“২৪ এপ্রিল থেকে ১০ দিনের জন্য বৈশাখী উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন কত রাত পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে, সেটি নথি দেখে নিশ্চিত বলতে হবে।”

অন্যদিকে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান,
“মেলার বিষয়ে আমাদের কাছে অনুমতির আবেদন এসেছে। আমরা এখনও প্রতিবেদন জমা দেইনি। পুলিশি অনুমোদন ছাড়া কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনগত বিশ্লেষণ:
প্রশাসনিক সূত্র মতে, কোনো গণসমাগম, মেলা বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত ভূমি বা স্থান ব্যবহারের অনুমতির পাশাপাশি স্থানীয় থানা, জেলা প্রশাসন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। যদি আয়োজকরা কেবল জমি বা স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে থাকেন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পান, তাহলে আয়োজনটি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে।
এছাড়া সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতিমালার পরিপন্থীভাবে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের দাবি:
মেলা বন্ধ না হলেও অন্তত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সময়সীমা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় এনে রাতের কার্যক্রম সীমিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বর্তমানে প্রশ্ন একটাই—সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর, সেখানে একই নগরীতে একদিকে মার্কেট বন্ধ আর অন্যদিকে রাতভর মেলা—এ দ্বৈত বাস্তবতার দায় নেবে কে?

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...