
খুলনা থেকে রাজিবুল ইসলাম রাজিব
গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য দ্বিগুণ হারে মজুরী প্রদানের দাবিতে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রবিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সম্মেলনে তারা বিদ্যমান সংকট ও ভোগান্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে ওজোপাডিকোর গ্রাহক সংখ্যা ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩১৬ জন। বিপরীতে কর্মরত কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র ৪৪০ জন এবং শ্রমিক-কর্মচারী ৯৬৪ জন। এই সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে ১০ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার লাইন এবং ৯৭টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র। এর মধ্যে ৮৬টি উপকেন্দ্রে নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ৩৪৪ জন এসবিএ পদে কর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২৫ জন। ফলে ১১৯টি পদ শূন্য রয়েছে, যা আগামী বছর অবসরের কারণে আরও বাড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লোকবল সংকটের কারণে কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৯৫২ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করা হলেও এর সঠিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। মাসিক হিসেবে অতিরিক্ত কাজের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৫৬০ ঘণ্টা হলেও এর বিপরীতে মাত্র ৭ হাজার ২০০ ঘণ্টার বিল পরিশোধ করা হয়। বাকি প্রায় ২১ হাজার ৩৬০ ঘণ্টার কোনো মজুরী দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কর্মচারীরা সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন ৭৫ জন এসবিএ, ৬২ জন সহকারী এবং ৪০ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে।
এ সময় বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সময় কাজ মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় এবং অতিরিক্ত কাজের কারণে স্ট্রোক ও হৃদরোগে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন, কর্মঘণ্টা সীমিতকরণ এবং অতিরিক্ত কাজের যথাযথ মজুরী—বিশেষ করে দ্বিগুণ হারে পরিশোধের দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন সংশ্লিষ্টরা।





