
রিয়াজ রহমান , শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার খালগুলো পুনঃখনন করা হলে স্থানীয় জেলেদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা আবারও পুরোদমে মাছ ধরার সুযোগ পাবে।
পদ্মা ও আড়িয়ান খাঁ নদী বেষ্টিত শিবচর একসময় খাল-বিল ও বাওরের জন্য বিখ্যাত ছিল। ময়না কাটা নদ, বিল পদ্মাসহ বিভিন্ন খাল ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য। তবে গত প্রায় ১৬ বছরে অপরিকল্পিত ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কারণে অনেক খালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। পানিপ্রবাহ না থাকায় খালগুলো শুকিয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায় দেশীয় মাছের প্রজাতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদবরের চর থেকে ময়না কাটা পর্যন্ত বিস্তৃত খালের বড় অংশ ভূমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে। কোথাও খাল ভরাট করে আবাসন নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও পানি চলাচল বন্ধ হয়ে খাল মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালপথ একসময় সারা বছরই মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত হতো। বছরে ৮ থেকে ৯ মাস মাছ ধরতে পারলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ মাসে।
খালে পানি না থাকায় অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ চায়ের দোকান দিয়েছেন, কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন। যারা এখনও পেশায় আছেন, তারাও জায়গা সংকটে ভুগছেন।
স্থানীয় জেলে সুব্রত মালো বলেন, আগে খালে সারা বছর মাছ পাওয়া যেত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ নেই বললেই চলে। খাল খনন হলে আমরা আবার আগের মতো মাছ ধরে সংসার চালাতে পারব।
আরেক জেলে আকাশ চন্দ্রো মালো বলেন, আমাদের বাপ-দাদার পেশা ছিল মাছ ধরা। এখন খাল না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্য কাজ করতে হচ্ছে। খালগুলো খনন করা হলে আমরা আবার আগের পেশায় ফিরতে পারব।
এদিকে, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো খালের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভরাট হওয়া খালের তথ্য জানাতে সাধারণ জনগণকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খালগুলো পুনঃখনন করা গেলে পানিনিষ্কাশন সহজ হবে, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে এবং মৎস্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে করে স্থানীয় জেলেদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।





