
আলী কদর পলাশ
আমাদের দেশের রাজনীতি আর সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কটা মাঝে মাঝে সিরিয়ালের চেয়েও জমজমাট হয়। তবে এই কাহিনীর নতুন টুইস্ট হলো- ক্ষমা চাওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি আংশিক এবং ‘শর্ত প্রযোজ্য’!
ঘটনার শুরু আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে। তাঁর দাবি, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এক-এগারো বা পরবর্তী সময়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই ‘ভিআইপি ক্ষমা’ ছিল কেবল শেখ হাসিনার জন্য সংরক্ষিত। খালেদা জিয়া বা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি কোনো অনুশোচনা দেখাননি।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ক্ষমা কি এখন মোবাইল ডেটা প্যাকের মতো সিলেক্টিভ? বেসিক প্যাকেজে একজন, আর প্রিমিয়ামে অন্যজন? মাহমুদুর রহমানের ভাষ্যমতে, এক-এগারোর সেই ‘অর্ধসত্য’ আর ‘মিশ্র সত্যের’ ফিউশন কুইজিনে রান্না করা সংবাদগুলো ছিল সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। যেখানে সংবাদমাধ্যমগুলো খবরের চেয়েও বেশি ‘খবর’ তৈরি করেছিল।
মঞ্চে এবার নতুন চরিত্র সরকারের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান। মাহমুদুর রহমানের বর্ণনায় তিনি এখন ‘থ্রি ইন ওয়ান’ -উপদেষ্টা, বিশ্লেষক এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর। যেন একই গাড়ির ড্রাইভার একজন, কিন্তু স্টিয়ারিং তিনটা! তিনি এখন সরকার চালাচ্ছেন, নাকি দল, নাকি দুটোই। সেই প্রশ্ন তুলেছেন মাহমুদুর রহমান।
জাহেদ-উর রহমান আবার প্রথম আলোকে ‘দেশের একমাত্র হেডমওয়ালা’ পত্রিকার খেতাব দিয়েছেন। মাহমুদুর রহমানের পাল্টা প্রশ্ন—বাকি সংবাদমাধ্যমগুলো কি তবে হেডলেস বা মস্তকহীন? তিনি মনে করেন, এই তাচ্ছিল্য আসলে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া ‘আমার দেশ’-এর মতো সংবাদপত্রের লড়াইকে খাটো করার এক সূক্ষ্ম কৌশল।
ইতিহাসের খাতা খুলে মাহমুদুর রহমান মনে করিয়ে দিলেন। যখন অন্য অনেকে ক্ষমতার ছায়াতলে সেফ গেম খেলতে ব্যস্ত, তখন আমার দেশ ছিল একা বিপরীত স্রোতে। অন্যরা যখন নদীর জোয়ারে গা ভাসিয়েছে, তিনি তখন উল্টো দিকে সাঁতার কেটেছেন। ফলাফল? ১৫ বছরের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর দীর্ঘ নির্বাসন।
পুরো ঘটনাটি এখন এক বিশাল জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে, যেখানে সবাই বক্তা, কিন্তু নিরপেক্ষ বিচারক মেলা ভার। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এ দেশে খবরের কাগজ কেবল খবর দেয় না, মাঝে মাঝে নিজেই ইতিহাসের সবচাইতে বিতর্কিত ‘খবর’ হয়ে দাঁড়ায়।
০২ এপ্রিল, ২০২৬
ধানমন্ডি, ঢাকা





