বোরহানউদ্দিনে মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে ‘অতিষ্ঠ এলাকাবাসী’ থানায় অভিযোগ

Date:

spot_img

তুহিন ফরাজী

ভোলার বোরহানউদ্দিনে মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে টবগী ৫ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী। ধ্বংস হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মোরশেদ রাতের আঁধারে মহিলাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে। দিনেদুপুরে মহিলারা রাস্তায় হেটে গেলে অশ্লীল কথা বার্তা বলে ও রাতের আঁধার বাসা বাড়ির জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ওড়না ধরে টান দিয়ে কুপ্রস্তাব দেন।কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাননাশের হুমকি দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি তার ভাই মিরাজ কন্টেকটারের শেল্টারে মোরশেদ অপরাধ করে পাড় পেয়ে যায়। ৩/৪ মাস আগে চরফ্যাশনে ৪০০ পিচ ইয়াবাসহ প্রশাসনের হাতে আটক হন। পরে তার ভাই মিরাজ তাকে জামিনে ছাড়িয়ে আনেন এমন অভিযোগ স্হানীয়দের। এছাড়াও এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে ডাক দেওয়ার কেউ নেই, কেউ ডাক দিলেও, তাকে মারতে আসে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। লিখিত অভিযোগে জানা যায়,আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী শাহনাজ বেগম (৩৮) স্বামীঃ মোঃ আবদুল হান্নান, সাং- টবগী ৫নং ওয়ার্ড, জোম হাজী বাড়ি, টবগী- ইউনিয়ন, থানা: বোরহানউদ্দিন, জেলাঃ ভোলা। বোরহানউদ্দিন থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে লিখিত অভিযোগ করিতেছি যে, আমি টবগী ৫নং ওয়ার্ড, জোম হাজী বাড়ি এর স্থায়ী বাসিন্দা। উক্ত বিবাদীরা আমাদের পাশের এলাকায় থাকে। উক্ত বিবাদীরা খুবই খারাপ ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক। উক্ত বিবাদীরা বখাটে ও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম করে। বিবাদীরা নেশা করে, জুয়া খেলে, বিবাদীরা জীনের ব্যবসা করে, ইয়াবা ও নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রয় করে, এলাকায় জুয়া খেলে ও চুরি ছিনতাই করে, বিবাদীদের অত্যাচারে অত্র এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ, অত্র এলাকার কোন মেয়ে, মহিলা নিরাপদে নিবিঘ্নে চলাচল করিতে পারে না। বিবাদীরা উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমাদের বাড়িতে আসিয়া আমাদের বেড়া দরজা জানালা ভাঙ্গিয়া ঘরের ভিতরে লাঠি দিয়ে খোচা মারে। উক্ত ০১ নং বিবাদী সব সময় আমাকে দেখলে চাঁদার টাকা চায়, আমাকে অকথ্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে, খারাপ অঙ্গভঙ্গি করে, কু-প্রস্তাব দেয়। জানালা দিয়ে পা ধরে টানাটানি করে। অদ্য ঘটনার পূর্বেও বিবাদীরা একাধিকবার আমাদের ঘরে আসিয়া আমার আত্ম সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করিয়াছে। অদ্য ঘটনার পূর্বেও বিবাদী একাধিকবার প্রায় ৪/৫ বার আমার ঘরে আসিয়া হামলা করে চাঁদা চায়। ঘটনার দিন গত ০১/০৪/২০২৬ ইং তারিখ দিবাগতরাত আনুমানিক ১১.৩০-১২.৩০ ঘটিকার সময় আমাদের বাড়িতে আসিয়া চিৎকার চেছামেছি করে, আমার কাছে ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ টাকা) চাঁদা চায়, আমরা প্রতিবাদ করলে ০১নং বিবাদী আমাকে জীবন নাশের হুমকি দামকি দেয়, আমাদের ঘরে গভীর রাতে ইট পাথর মারে, আমার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়া মারার হুমকি দেয়। গভীর রাতে আমরা আতঙ্কিত হই। আমি উক্ত বিষয়ে আমাদের স্থানীয় গন্যমান্য আত্মীয় স্বজনের সাথে আলোচনা করলে তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। স্থানীয় গন্যমান্য আত্মীয় স্বজনের পরামর্শ মতে আমি নিরূপায় হয়ে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করি। আমি আইগত ব্যবস্থা চাই।

ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন পাটোয়ারী, হালেমা বেগম, ও সিরাজ, জানান, মাদক ব্যবসায়ী মোরশেএলাকায় মাদক কেনাবেচা করে। মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে চুরির মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসায়ী মোরশেদ পুলিশের হাতে আটক হলেও জামিনে ফিরে এসে একই কাজে লিপ্ত হয়। এমন জঘন্যতম কাজে বাঁধা দেয়ায় দলবল নিয়ে সে এলাকার লোকজনকে মারধর করে। তাঁর অপকর্মের শাস্তির বিচার দাবি করেছেন তারা।

মাদক ব্যবসায়ীর ভাই মিরাজ কন্টেকটারের বিরুদ্ধেও শেল্টার দাতা হিসেবে অভিযোগ থাকায় তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, আমার ভাই মোর্শেদকে আমি ডাক দেই, সে শুনেনা, তাকে শাসন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ তাকে মারধর করবো, দেখা যাবে রাতে অন্ধকারে আমাকে একা পেয়ে ধরবো। সেই ভয় আমাদের মধ্যে কাজ করে। আমি বেশির ভাগ চট্টগ্রাম থাকি আমার পরিবার বাড়িতে থাকে দেখা যাবে, তাদের উপর একটা কিছু করবে। এইজন্য আমরা কিছু বলতে পারলেও বলিনা।

ওই এলাকার মিনারা বেগম অভিযোগ করে বলেন,মোর্শেদ এর অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ইবতেদায়ী দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো.নোমান বলেন, মাস খানিক আগের কথা, আমার প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ওয়াসরুমে গেলে বেড় হওয়ার সময় মোর্শেদ জোরপূর্বক কোলে নিয়ে অন্যথায় নেওয়ার সময় মেয়েটি ডাক চিৎকার করে উঠলে অন্য শিক্ষকরা দৌড়ে আসলে মেয়েটিকে পেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটিকে নিয়ে মির্জাকালু ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ করি। পরে বিষয়টি মোর্শেদ এর মা ফাঁড়িতে গিয়ে মিমাংসা করে। মাদক ব্যবসায়ী মোর্শেদের কারণে এলাকার যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে লোকজন এখানে প্রতিদিন মাদক কেনাবেচা করতে আসে। দেখার কেউ নেই! তাই স্হানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...