ইউরোপের স্বপ্ন বনাম মৃত্যুর সাগর: আর কত প্রাণ

Date:

spot_img

আলী কদর পলাশ

৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় এদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এই তথ্য স্থানীয় পরিবার জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখনও পুরো বিষয় নিশ্চিত করেনি।

এই ঘটনা নতুন নয়। তবুও এর পুনরাবৃত্তি থামছে না। কারণ সমস্যার মূল জায়গায় কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

যারা মারা গেছেন তারা ভালো জীবনের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন। তারা অপরাধী ছিলেন না। তারা শুধু একটি সুযোগ খুঁজছিলেন।

দালালচক্র সেই সুযোগের নামে প্রতারণা করেছে। নিরাপদ যাত্রার আশ্বাস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দিয়েছে। খাবার ও পানির অভাবে সাগরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে স্বজনদের বক্তব্যে জানা যায় ১২ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। বড় নৌকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হয়েছে ছোট প্লাস্টিকের নৌকা। কয়েক দিনের যাত্রা দীর্ঘ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে নির্মমভাবে।

এই চক্র অনেক দিন ধরে সক্রিয়। তারা গ্রাম পর্যায়ে কাজ করে। সহজেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। তারপর তাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রশ্ন হলো এই চক্র কেন থামছে না। স্থানীয়ভাবে কারা তাদের সহযোগিতা করছে। কেন আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

শুধু ঘটনার পর তদন্ত যথেষ্ট নয়। আগেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানব পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পথও জটিল। এই অবস্থায় অনেকেই ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়।

তাই সমাধানও হতে হবে সমন্বিত। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন সহজ করতে হবে। তরুণদের জন্য দেশে কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন থাকতে পারে। ভালো জীবনের আকাঙ্ক্ষাও স্বাভাবিক। কিন্তু অবৈধ পথে এমন অভিবাসন যাত্রাকে আমাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। পরিবার সমাজ প্রশাসন এবং গণমাধ্যম সবাইকে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে এই পথ উন্নত জীবনের পথ নয়। এটি প্রতারণার পথ। অনেক ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর পথ। বৈধ পথ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার চিন্তাকে নিরুৎসাহিত করা এখন সময়ের দাবি। না হলে এমন শোক আবারও ফিরে আসবে।

এ অবস্থায় সরকারের কর্তব্য স্পষ্ট। মানব পাচার চক্র দমন করতে হবে। দালালদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। বৈধ অভিবাসন সহজ করতে হবে। তরুণদের জন্য দেশে কাজের সুযোগও বাড়াতে হবে। তাহলেই এমন মৃত্যু কমবে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...