
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ডিজিটাল জামিননামা ব্যবস্থা। এই পদ্ধতি বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে।
আগে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরও একজন আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো। আদালতের কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে কয়েক দিন লেগে যেত। মাঝখানে নানা ধাপ থাকত। কখনো কখনো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও দেখা দিত। ফলে বিচারপ্রার্থী ও তার পরিবারকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে হতো।
‘ই-বেইলবন্ড’ চালুর ফলে এই জটিলতা অনেকটাই কমেছে। এখন আইনজীবী অনলাইনে জামিননামা দাখিল করতে পারেন। বিচারক তা যাচাই করে সরাসরি ডিজিটালভাবে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। এরপর জেল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নথি যাচাই করে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়ে উঠছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় এই পদ্ধতি ভালো সাড়া ফেলেছে। হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী এর সুবিধা পেয়েছেন। এতে শুধু সময়ই বাঁচছে না, জামিননামা জালিয়াতির সুযোগও কমে যাচ্ছে।
এখন এই সেবা আরও কয়েকটি জেলায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর আরও শক্তিশালী হবে।
তবে প্রযুক্তি চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও জরুরি। আদালত, কারাগার ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের কাছে সহজ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই পথে ‘ই-বেইলবন্ড’ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিচার প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং আধুনিক।





