
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জুলাই জাতীয় সনদ। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত এই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও উত্তেজনা।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিষয়টি আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
আদালতের রুলে নতুন প্রশ্ন
২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর করেন। পরে সেই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গেজেট জারি করা হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এরপরই দুইজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করে এই গণভোটের অধ্যাদেশ এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জুলাই সনদ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং নবনির্বাচিত সাংসদদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিএনপির ভিন্ন অবস্থান
সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। দলটির দাবি, বর্তমান সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের বিধান নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আদালত থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সংসদে আইন প্রণয়নের সময় সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তার মতে, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদে আলোচনা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত।
জামায়াত ও এনসিপির ক্ষোভ
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতে টেনে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা ইতিবাচক ফল দেয়নি। বরং তা জাতীয় জীবনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
এনসিপির নেতারাও অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ প্রশ্নে বিএনপি দ্বৈত অবস্থান নিচ্ছে।
সামনে কী হতে পারে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ নিয়ে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মধ্যে এই মতপার্থক্য কতটা গভীর হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে বিষয়টি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে কি না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, বিরোধী দলগুলো যদি এই ইস্যুকে জোরালোভাবে সামনে আনে এবং জনসমর্থন পায়, তাহলে তা রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত, সংসদের আলোচনার ধারা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই এখন নির্ধারণ করবে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা বড় আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।





