রমজানে ‘মরাল পুলিশিং’ বিতর্কে আমির হামজা, আইন ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

Date:

spot_img

মুখপাত্র ডেস্ক

কুষ্টিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে মরাল পুলিশিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার নামে তিনি বাজারে গিয়ে দোকানিদের সতর্ক করেছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া সদরের পাটিকাবাড়ি বাজারে। ভিডিওতে দেখা যায়, আমির হামজা নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারে যান। তার সঙ্গে ছিলেন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মসিউল আজম। এক পর্যায়ে ক্যারাম খেলা ও টিভি চালানো নিয়ে দোকানিদের ধমক দিতে শোনা যায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে। তিনি বলেন, রমজান মাসে কোনো ক্যারাম বা টিভি চলবে না।

পরে আমির হামজাকেও বলতে শোনা যায়, নামাজের সময় এসব না করতে। রমজান মাস একটু মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এমপি ও পুলিশের এমন হুঁশিয়ারির পর বাজারের বেশিরভাগ দোকানে টিভি ও ক্যারাম খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বেচাকেনা কমে গেছে। তাদের দাবি, তারা এমন কিছু করছিলেন না যাতে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ওপরের নির্দেশেই তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমপির উপস্থিতিতে তার কথাই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এভাবে বলা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমির হামজা অবশ্য মরাল পুলিশিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু রমজানের পবিত্রতার কথা ভেবে আহ্বান জানিয়েছেন। এক মাস অন্তত নামাজের সময় টিভি ও ক্যারাম বন্ধ রাখতে বলেছেন। তিনি নিজেকে একজন আলেম হিসেবেও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, দ্বীনের দায় থেকেই তিনি কথা বলেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা তার কথাই একটু উঁচু গলায় বলেছেন।

এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সংবিধান ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। আইনজীবীরাও বলছেন, দেশে মরাল পুলিশিংয়ের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। কারও কার্যকলাপে আইনভঙ্গ না হলে তাকে এভাবে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৪১ অনুচ্ছেদে জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেন, তাহলে তাকে জোর করে কিছু বন্ধ করতে বলা যায় না। অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু আগেভাগে ধমক দিয়ে নিষেধ করা ঠিক নয়।

ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কোথায় সীমা টানবেন। ধর্মীয় আহ্বান আর প্রশাসনিক নির্দেশ দুটির পার্থক্য কোথায়। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখন তদন্তের পর প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মানুষ।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...