
বিশেষ প্রতিনিধি
বারোই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে এবং কারা জায়গা পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে—তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা আগের সরকারের তুলনায় আকারে ছোট হবে। বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় থাকলেও সেটি কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা রয়েছে। একই খাতে কাজ করা একাধিক মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়কে এক ছাতার নিচে আনার ভাবনা রয়েছে। দলের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে এবং জবাবদিহিতা বাড়বে।
নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন। এছাড়া এক ডজনের মতো প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তরুণ ও মেধাবী নেতারা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন।
সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আবদুল আউয়াল মিন্টু। নারীদের মধ্যে সেলিমা রহমান ও শামা ওবায়েদের নাম আলোচনায় আছে।
তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সম্ভাব্য তালিকায়। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত ববি হাজ্জাজ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত কয়েকজন নেতাকেও সরকারে রাখার চিন্তা রয়েছে। তাদের মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না, তাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পেতে পারেন। নজরুল ইসলাম খানকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পরই চূড়ান্ত তালিকা স্পষ্ট হবে। তবে আকারে ছোট, সমন্বিত এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ একটি সরকার গঠনের ইঙ্গিত এখনই স্পষ্ট।





