
বিশেষ প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই অবস্থায় বিএনপির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম বিদ্রোহী প্রার্থী।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির অন্তত ৯২ জন নেতা। তারা লড়ছেন প্রায় ৭৯টি আসনে। এর মধ্যে অন্তত ৪৬টি আসনে তারা শক্ত অবস্থানে আছেন। এই তথ্য উঠে এসেছে প্রথম আলোর মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে।
বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ বলছে, দলীয়ভাবে বহিষ্কার করেও এই বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরানো যায়নি। বরং অনেক এলাকায় তারা বিএনপির মনোনীত বা সমঝোতার প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন।
বিএনপির দপ্তর বিভাগ জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু তারা মাঠ ছাড়েননি। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতা কর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন।
এতে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে ভোট কাটাকাটির। একাধিক বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। অনেক আসনে বিএনপির নিশ্চিত ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবশ্য প্রকাশ্যে আশাবাদী। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদ্রোহীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দলীয় প্রার্থীদের তেমন ক্ষতি হবে না। তিনি দাবি করছেন, মাঠে এখন নেতা কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, বাগেরহাট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ বহু এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা বড় জনসমাগম করছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, জিতলে তারা শেষ পর্যন্ত বিএনপিতেই থাকবেন।
বিশেষ করে যেসব আসনে বিএনপি সমমনা দলকে সমর্থন দিয়েছে, সেখানে ক্ষোভ আরও স্পষ্ট। মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি নেতারা অনেক জায়গায় সমঝোতার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। এতে জোটের প্রার্থীরাও চাপে পড়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রকাশ। দীর্ঘদিন প্রকৃত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা না থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশা ও বঞ্চনার ক্ষোভ এবার বিস্ফোরিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, সব জায়গায় যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিতে না পারাই এই সংকটের মূল কারণ। অনেক জনপ্রিয় স্থানীয় নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তারা বিদ্রোহী পথে হেঁটেছেন।
অন্যদিকে জাহেদ উর রহমান বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বিদ্রোহীদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের ভোটারদের বড় একটি অংশ শেষ মুহূর্তে জয়ের সম্ভাবনা দেখেই সিদ্ধান্ত নেন।
তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপি শেষ পর্যন্ত কতটি আসন হারাবে। আর এই ক্ষত কি নির্বাচনের পর সহজে সারানো যাবে।
এই নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়। এটি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতারও বড় পরীক্ষা।





