নেত্রকোনায় আলিফ হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি

Date:

spot_img

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
‎
‎নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যাঁর হাতে থাকার কথা ছিল কলম, যাঁর কাজ ছিল অনিয়ম ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরা—সেই সাংবাদিককেই প্রাণ দিতে হলো দুর্বৃত্তদের গুলিতে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

‎নিহত আলিফ ফকির রূপসী বাংলা টিভির নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন বলে জানা গেছে। তাঁর এমন নৃশংস মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর সাংবাদিকতা কিংবা প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে আলিফ দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সামনে একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতনামা যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়েন। গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
‎দোকানি রবীন রাংসা জানান, আলিফ তাঁর দোকানে সিগারেট কিনতে এসে মোবাইল ফোন ফেলে চলে যান। পরে ফোন নিতে ফিরে এলে দুজন ব্যক্তি তাঁর পেছন দিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। ভয়ে তিনি দোকানের ভেতরে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

‎দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত সাংবাদিকের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।

‎প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি: হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন
‎একজন সাংবাদিকের এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

‎নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো দাবি—হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করুন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনুন এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গুলির খোসাসহ সব আলামত যথাযথভাবে পরীক্ষা করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
‎সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের সংবাদ প্রকাশের কারণে কেউ হুমকি বা সহিংসতার শিকার হলে তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে হবে।

‎একটি প্রাণহানির বিচার শুধু একটি পরিবারের কান্না থামানোর বিষয় নয়; এটি অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা। আলিফ ফকির হত্যার বিচার হোক—দোষীরা আইনের আওতায় আসুক, কোনো অপরাধী যেন পার না পায়।
‎
‎
‎
‎

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...