দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় সরকারি ‘ষাইট খাল’ অবৈধভাবে দখল, মাটির বাঁধ ও বসতঘর নির্মাণের প্রতিবাদে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো গ্রামজুড়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং খালটি দ্রুত অবমুক্ত করার দাবিতে আজ রবিবার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মানববন্ধন শেষে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সরকারি এই খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র খালের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে সেখানে মাটির শক্ত বাঁধ দেয়। শুধু বাঁধ নির্মাণেই ক্ষান্ত না হয়ে, খালের জায়গার ওপর অবৈধভাবে বসতবাড়ি ও স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।খালের পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পীরপুরকুল্লা গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে খালপাড় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ফসলি জমির পানি নামতে না পারায় কৃষকদের চাষাবাদও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
আজ রবিবার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, “সরকারি খালটি দখল করে বাঁধ দেওয়ায় আমরা নিজ গ্রামেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। নোংরা ও থমকে থাকা পানির কারণে এলাকায় নানা রকম চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।”
অবিলম্বে এই অবৈধ বাঁধ ও স্থাপনা ভেঙে ফেলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।





