
নবীনগর প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড়ে অবস্থিত ‘হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’।
প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা চার শিক্ষার্থীকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘোরানোর ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
আজ ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃতি সন্তান হাফেজ ক্বারী শাহ্ আহমাদ রিফাত জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো এবং উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করতেই এ উদ্যোগ।
২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি সফলতার সাথে ২য় বর্ষে পদার্পণ করেছে। নূরানী, নাযেরা ও হিফজ—এই তিনটি বিভাগের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ৩ জন শিক্ষার্থী এবং সারা বছর কোনো প্রকার অন্যায় বা শৃঙ্খলাভঙ্গ না করা (অভিযোগহীন) ১ জন শিক্ষার্থী—মোট ৪ জন ছাত্রকে এই বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরই এই নিয়ম চালু থাকবে।
এ বছর হেলিকপ্টারে ঢাকা ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া চার সৌভাগ্যবান শিক্ষার্থী হলো তারা হলেন
১. ইয়াছির আহমেদ (পিতা: আলাল হোসেন, গ্রাম: আমতলী, বীরগাঁও ইউনিয়ন, নবীনগর)
২. ছিয়াম আহমেদ (পিতা: রফিকুল ইসলাম, উল্চাপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর)
৩. আবু বক্কর ছিদ্দিক (পিতা: মিজানুর রহমান, মুরাদনগর, কুমিল্লা)
৪. জাহিদুল হাসান (পিতা: জাকির হোসেন, গ্রাম: আমতলী, বীরগাঁও ইউনিয়ন, নবীনগর)
সন্তানদের এমন অভাবনীয় সাফল্যে ও হেলিকপ্টার ভ্রমণের আনন্দে উদ্বেলিত তাদের অভিভাবকরাও।
পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ইয়াছির আহমেদের মা স্বপ্না আক্তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, আমি অনেক খুশি। আজ আমার ছেলে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা যাচ্ছে।”
ছিয়াম আহমেদের মা নার্গিস আক্তার বলেন, “আমার স্বপ্ন আমার ছেলে একদিন কুরআনের হাফেজ হবে। সে পরীক্ষায় এক নম্বর হয়েছে এবং আজ হেলিকপ্টারে ঢাকা যাচ্ছে, এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
জাহিদুল হাসানের মা নূরবানু বেগম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে আগেও প্রথম হয়েছিল, এবারও প্রথম হয়েছে। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”
উল্লেখ্য, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ক্বারী শাহ্ আহমাদ রিফাত তার নিজ জন্মভূমি নবীনগর উপজেলার শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। নবীনগরের যেকোনো শিক্ষার্থী এ মাদ্রাসায় ভর্তি হলে কোনো প্রকার ভর্তি ফি নেওয়া হবে না বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।৷ এ সময় আশেপাশে এলাকার থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসেন হেলিকপ্টার ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ৩ জন শিক্ষার্থীদের দেখার জন্য,





