
নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দিতে গোপন প্রক্রিয়া, পুরোনো টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার মিরপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন পুরাতন ভবন নিলাম ও টেন্ডার কার্যক্রম ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সম্পদ নিলামের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য ঠিকাদারকে সমান সুযোগ না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মহলকে, যাদের তারা ‘ফ্যাসিবাদীদের সুবিধাভোগী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সুবিধা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
এ অভিযোগের পর নথিপত্র যাচাই, দরপত্র প্রক্রিয়া পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন ঠিকাদার ফোরাম’। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বা পুরোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কারা পেল সুবিধা, উঠছে প্রশ্ন
ফোরামের অভিযোগ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন পুরাতন ভবন নিলাম ও টেন্ডার কার্যক্রমে সব যোগ্য ঠিকাদারকে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে নিলামের তথ্য প্রচার, দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত বা অনিয়ম হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফোরাম।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদের নিলাম প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ না হলে প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হতে পারে।
কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ফোরাম।
‘পুরোনো টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার দিতে হবে’
ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যেহেতু অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুরোনো টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য ঠিকাদারকে সমান সুযোগ দিতে হবে। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি যথাযথভাবে প্রচার করতে হবে এবং দরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
‘সরকারি সম্পদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে’
ফোরামের প্রতিনিধি মোঃ রূপক তালুকদার বলেন, নিলাম ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যদি গোপনীয়তা, পক্ষপাত বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে, তাহলে সরকারি সম্পদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অথবা যাদের তারা ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারি নিলাম বা টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নতুন টেন্ডার আয়োজন করা প্রয়োজন।
তদন্তে যেসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি
ফোরামের পক্ষ থেকে পুরাতন ভবন নিলাম ও সংশ্লিষ্ট টেন্ডার কার্যক্রমের নিলাম বিজ্ঞপ্তি ও প্রচারের পদ্ধতি, অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের তালিকা, দরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়নের নথি, নিলামে নির্ধারিত মূল্য ও চূড়ান্ত দর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা, সরকারি সম্পদের মূল্যায়ন এবং নিলাম ও টেন্ডার পরবর্তী প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, এসব নথি প্রকাশ্য যাচাই ও স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনা হলে নিলাম ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা, অভিযোগ মিথ্যা হলে পরিষ্কার হওয়া দরকার
সচেতন ঠিকাদার ফোরাম বলছে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করা নয়। বরং সরকারি সম্পদের নিলাম ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।
তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও পরিষ্কার হওয়া উচিত।
ফোরামের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পুরোনো টেন্ডার বাতিল করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হলে সব যোগ্য ঠিকাদার সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।





