
দিনাজপুর প্রতিনিধি
বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে খনিকর্মীর সন্তান হুমায়ুন কবিরের মানববন্ধন।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় পেয়েও চাকরি মেলেনি,অনিশ্চয়তায় মধ্যপাড়ার শতাধিক খনিকর্মীর পরিবার।
‘আম্মা প্রতিদিন সকালে খনির গেইটের দিকে চাইয়া থাকে,আর আব্বা কোর্টের কাগজের দিকে।বয়স ২০ পেরাইয়া গেল,বাপ চাকরি ফেরত পাইলো না,আমরাও পড়াশোনা চালাইতে পারতেছি না।’
এভাবেই নিজেদের পরিবারের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল)এর এক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খনিকর্মীর সন্তান।
শ্রমিকদের দাবি,১৯৯৯ ও ২০০০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁরা মধ্যপাড়া পাথরখনিতে কাজে যোগ দেন।দীর্ঘদিন কাজ করলেও তাঁদের চাকরি স্থায়ী হয়নি।বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন ও আইনি লড়াই করে আসছেন তাঁরা।
শ্রমিকদের ভাষ্য,উচ্চ আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে গেলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
শুক্রবার সকালে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় চাকরি স্থায়ীকরণ ও আইনগত পাওনা আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন ও সুধী সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী খনিকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের সন্তানরাও অংশ নেন।
শ্রমিকরা বলছেন,দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।সন্তানের পড়াশোনা,চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতেও অনেককে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তাঁদের দাবি,সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আদালতের রায় পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খনিকর্মীদের চাকরি স্থায়ী করা এবং আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হোক।





