
আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত—এমন বাস্তবতা জেনেও গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারা অব্যাহত রাখতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে অলি আহমেদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আযাদ বলেন, ‘এ রাষ্ট্রে ধাপে ধাপে যে বাধা তৈরি হয়েছে, মানুষের অধিকার যেভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা সেটি তুলে দিতে চাই। এ জন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন, আমরা একজন বর্ষীয়ান নেতা ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করেছি। জাতির পক্ষ থেকে, জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একজন যোগ্য প্রার্থী পেতেন। তাঁর সমমানের কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারতেন না।’
জোটের নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলাফল সম্পর্কে বাস্তবতা সম্পর্কে তারা অবগত। তবুও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় জোট।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তারা শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব হিসেবে দেখছে না; বরং সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক চর্চার দাবি তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছে।





