শেষ প্রহরের বিদূষক-১

Date:

spot_img

আলী কদর পলাশ

রাত গভীর হলে মানুষ সাধারণত দুটি জিনিসের অপেক্ষায় থাকে। ঘুম অথবা টেলিফোন।

আমার ভাগ্যে ঘুম খুব একটা জোটে না। টেলিফোনই জোটে।

মধ্যরাতের কিছু পরে ফোনটি বেজে উঠল। নম্বরটি এখনো মুখস্থ। অথচ মানুষটির সঙ্গে শেষ কবে দেখা হয়েছিল, মনে নেই। কিছু সম্পর্কের হিসাব এমনই। বয়স বাড়ে, দূরত্ব বাড়ে, অভিমান বাড়ে। শুধু টেলিফোন নম্বরটি পুরোনো হয় না।

ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে প্রশ্ন এল,

—ঘুমিয়ে পড়েছিলে?

—তুমি ফোন করবে জেনে ঘুমিয়ে পড়ার সাহস করিনি।

—তুমি এখনো মিথ্যা বলো?

—দেশের রাজনীতি অনুসরণ করি। কিছু প্রভাব তো পড়বেই।

সে হাসল।

হাসিটাও বদলায়নি। আগে সেই হাসি শুনে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত। এখন রক্তচাপ বাড়ে। বয়স মানুষকে কত বিচিত্রভাবে বাস্তববাদী করে তোলে!

—গত সপ্তাহের খবর পড়েছ?

—খবর শুধু পড়িনি, হিসাবও করেছি।

—কিসের হিসাব?

—গত সাত দিনে দেশে কতজন কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

—হিসাব মিলেছে?

—মেলেনি। পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে মাঝখানের মানুষটিকেই আর দেখা যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তার কথাও বলেছেন।

সে বলল,

—এটি তো ভালো খবর।

—অবশ্যই। আমাদের দেশে ঘোষণার মান সব সময়ই ভালো। শুধু ঘোষণা থেকে মানুষের হাতে পণ্য পৌঁছাতে গিয়ে সরবরাহে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।

—সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করতে হয়?

—তোমাকে একবার বিশ্বাস করেছিলাম। তারপর থেকে সাবধান হয়েছি।

—আমাকে ভালোবেসেছিলে কথাটি অতীতকালে বললে কেন?

—সরকারি প্রকল্পের মতো। উদ্বোধন হয়েছিল, সমাপ্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

সে আবার হাসল।

বলল,

—উদ্যোক্তাদের সহায়তা পেতে কিছু নিয়ম তো মানতে হবে।

—নিশ্চয়ই। আমাদের দেশে ব্যবসা শুরু করার প্রথম শর্ত হলো, ব্যবসার চেয়ে আবেদনপত্র ভালো বুঝতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত, যে দপ্তর সহায়তা দেবে, সেই দপ্তরে পৌঁছানোর পথ জানতে হবে। তৃতীয় শর্ত, প্রথম দুটি শর্ত জানলেও ধৈর্য হারানো যাবে না।

—তোমার কি ধারণা, কোনো উদ্যোক্তাই টাকা পাবেন না?

—পাবেন। তবে উদ্যোক্তা হওয়ার আগে তাঁকে আবেদনকারী, কাগজ সংগ্রাহক, প্রত্যয়নপত্র বিশেষজ্ঞ এবং অপেক্ষাবিদ হতে হবে।

রাজনীতিতেও গত সপ্তাহে ঐক্যের কথা শোনা গেছে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান এসেছে। আমাদের রাজনীতিতে ঐক্যের আহ্বান খুব পরিচিত একটি বিষয়। সাধারণত যে পক্ষ ক্ষমতায় থাকে, সে সবাইকে তার সঙ্গে একমত হওয়ার আহ্বান জানায়। যে পক্ষ ক্ষমতার বাইরে থাকে, সে সবাইকে সরকারের বিরুদ্ধে একমত হতে বলে।

সে বলল,

—জাতীয় স্বার্থে ঐক্য কি দরকার নেই?

—অবশ্যই দরকার। শুধু জাতীয় স্বার্থটি কে নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে আমাদের জাতীয় অনৈক্য আছে।

—তুমি কি কোনো বিষয়েই আশাবাদী নও?

—আছি। আমাদের নেতারা যখন ঐক্যের কথা বলেন, তখন অন্তত বোঝা যায় দেশে অনৈক্য আছে। রোগ নির্ণয় তো চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

গত সপ্তাহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাও আবার আলোচনায় এসেছে। তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁকে কারাগারে যেতে হবে।

সে বলল,

—দেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হবে?

—আমাদের রাজনীতি কখনো ঠান্ডা হয় না। মাঝেমধ্যে শুধু চুলার আঁচ একটু কমিয়ে রাখা হয়।

—তিনি ফিরবেন কি না, তুমি বিশ্বাস করো?

—রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা এবং বাস্তবে ফিরে আসার মধ্যে অনেক পথ। সেই পথ কখনো দিল্লি হয়ে আসে, কখনো আদালত হয়ে, কখনো জনসভা হয়ে।

—তুমি কাকে সমর্থন করো?

—যে আমাকে মধ্যরাতে ফোন করে।

—রাজনীতির কথা বলছি।

—আমিও তাই বলছি। রাজনীতিতে মানুষ সেই পক্ষকেই বেশি মনে রাখে, যে সময়মতো তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

সে কথাটি এড়িয়ে বলল,

—অর্থনীতির খবর কী?

—অর্থনীতি এখন এমন এক রোগী, যাকে সরকার ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দুই দিক থেকে পরীক্ষা করছে।

—দুজন চিকিৎসক থাকলে তো ভালো।

—সমস্যা হচ্ছে, একজন বলছেন রোগীর সম্ভাবনা খুব ভালো। অন্যজন বলছেন, প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে, পরে ৩ শতাংশের নিচেও নামতে পারে।

জুলাইয়ের ১২ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা সফরের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলেছে, বাংলাদেশের সামনে রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দুর্বল ব্যাংক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে। সরকার বলেছে, সংস্কার হবে ধাপে ধাপে এবং জনকল্যাণ রক্ষা করেই।

—ধাপে ধাপে সংস্কার খারাপ কী? সে জানতে চাইল।

—খারাপ নয়। আমাদের দেশে সব ভালো কাজই ধাপে ধাপে হয়।

—আর খারাপ কাজ?

—সেগুলো সাধারণত এক ধাপেই হয়ে যায়।

—উদাহরণ?

—ব্যাংক থেকে টাকা বের হতে একটি ধাপ লাগে। সেই টাকা ফেরত আনতে তদন্ত কমিটি, উপকমিটি, মামলা, আপিল ও পুনঃতদন্তসহ অনেক ধাপ লাগে।

—আইএমএফ কি আমাদের পাশে আছে?

—ঋণদাতা সব সময় ঋণগ্রহীতার পাশে থাকে। বিশেষ করে কিস্তির তারিখ ঘনিয়ে এলে।

—অর্থনীতির অবস্থা তাহলে খুব খারাপ?

—সেটি নির্ভর করে তুমি কোথায় বসে আছ।

সরকারি সভাকক্ষ থেকে দেখলে অর্থনীতি সম্ভাবনাময়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নথি থেকে দেখলে চাপের মধ্যে। ব্যবসায়ীর দপ্তর থেকে দেখলে চ্যালেঞ্জিং। আর বাজারের থলে হাতে দাঁড়িয়ে দেখলে অর্থনীতি একটি পারিবারিক দুর্ঘটনা।

—বাজারে আবার কী হয়েছে?

—বাজারে কোনো কিছু ঘটে না। শুধু দাম ঘটে।

টানা বৃষ্টি ও সরবরাহের ঘাটতিতে গত সপ্তাহে রাজধানীর অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। অল্প কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই শতক ছাড়িয়েছে। ভালো মানের কাঁচামরিচ উঠেছে ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে ডজনে প্রায় ২০ টাকা।

সে বলল,

—বৃষ্টিতে সরবরাহ কমলে দাম তো বাড়বেই।

—ঠিক। বাজারের যুক্তির অভাব নেই। বৃষ্টি হলে সরবরাহ কমে দাম বাড়ে। রোদ হলে উৎপাদন কমে দাম বাড়ে। শীত পড়লে চাহিদা বাড়ে বলে দাম বাড়ে। গরমে পণ্য নষ্ট হয় বলে দাম বাড়ে।

—তাহলে দাম কমে কখন?

—যখন ক্রেতার টাকা শেষ হয়ে যায়। তখন তিনি আর বাজারে যান না। বাজারে না গেলে অন্তত তাঁর ব্যক্তিগত বাজারদর স্থিতিশীল থাকে।

—তুমি বাজার করো?

—কখনো কখনো যাই।

—দরদাম করো?

—আগে করতাম। এখন দাম শুনে বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক করি না। মানুষটির প্রতি সহানুভূতি দেখাই।

—বিক্রেতার প্রতি?

—না, নিজের প্রতি।

সে বলল,

—কাঁচামরিচ খাওয়া কমিয়ে দাও।

—কাঁচামরিচ এখন আর খাদ্য নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। অতিথির প্লেটে দুটি কাঁচামরিচ রাখতে পারলে বুঝতে হবে পরিবারটি এখনো সচ্ছল।

বৃষ্টি শুধু বাজারে যায়নি। মানুষের ঘরেও গেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা ও পাহাড়ধসে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। কোথাও মানুষ পানিবন্দী, কোথাও রান্না করার উপায় নেই, কোথাও বিদ্যুৎ নেই।

সে গম্ভীর হয়ে বলল,

—মানুষের বিপর্যয় নিয়ে ব্যঙ্গ করা উচিত নয়।

—বিপর্যয় নিয়ে হাসছি না। প্রতিবছর একই বিপর্যয়ের সামনে আমাদের নতুন করে বিস্মিত হওয়ার অভ্যাসটি নিয়ে ভাবছি।

—প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো সব সময় ঠেকানো যায় না।

—ঠিক। কিন্তু বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে, পাহাড় কাটলে ধস নামবে, নালা বন্ধ থাকলে শহর ডুববে—এসব কথা জানার পরও প্রতিবছর একই জায়গায় দাঁড়িয়ে অসহায় হওয়ার নাম প্রকৃতি নয়।

—মানুষের কাছে তো ত্রাণ যাচ্ছে।

—ত্রাণ অবশ্যই দরকার। তবে এমন একটি রাষ্ট্র আরও বেশি দরকার, যেখানে বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার পর শুধু ছাতা কেনা হয় না; নালা পরিষ্কার করা হয়, পাহাড় রক্ষা করা হয়, ঝুঁকির মানুষকে আগেই সরানো হয়।

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—তুমি আগে এত গম্ভীর ছিলে না।

—আগে তোমার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতাম। এখন দেশের বর্তমান নিয়ে কথা বলি। গম্ভীর না হয়ে উপায় আছে?

—আমাদের ভবিষ্যৎও তো খুব উজ্জ্বল ছিল না।

—ছিল। শুধু বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়নি।

কথা আবার হালকা হলো।

আমি বললাম,

—গত সপ্তাহের সবচেয়ে বিস্ময়কর খবরটি এখনো বলিনি।

—কোনটি?

—বীমার খবর।

দেশের ৮২টি বীমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া। এর মধ্যে মাত্র সাতটি কোম্পানির কাছেই আটকে আছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, কোম্পানিগুলোর স্থায়ী আমানত, ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে এবং প্রয়োজন হলে সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা হবে।

সে বলল,

—অন্তত টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ তো নেওয়া হচ্ছে।

—মানুষ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানের টাকা দিয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত পেতে কোম্পানির ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।

—বীমার কাজই তো বিপদের সময় নিরাপত্তা দেওয়া।

—সেই কারণেই খবরটি এত সুন্দর। গ্রাহক বিপদ থেকে বাঁচতে বীমা করেছিলেন। এখন বীমার টাকা উদ্ধারের জন্য তাঁকেই বিপদ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

—সম্পদ বিক্রি করে টাকা দিলে সমস্যা কী?

—সমস্যা নেই। ব্যাপারটি শুধু নিজের ছাতা বিক্রি করে বৃষ্টির পানি মোছার তোয়ালে কেনার মতো।

সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

—তোমার কথায় মনে হচ্ছে, গত সপ্তাহে দেশে ভালো কিছুই ঘটেনি।

—ঘটেছে।

—কী?

—সাধারণ মানুষ এখনো সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। কাজে গেছে। পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটেছে। বাজারে দাঁড়িয়ে দরদাম করেছে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছে। নিজের পাওনার জন্য বীমা কার্যালয়ে অপেক্ষা করেছে। রাতে বাড়ি ফিরে বলেছে, আগামীকাল দেখা যাবে।

—এটি কি সুসংবাদ?

—এই দেশে মানুষের বেঁচে থাকার জেদই সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।

—তাহলে এত অভিযোগ করছ কেন?

—কারণ মানুষের সহ্যক্ষমতাকে আমরা প্রায়ই সম্মতি বলে ভুল করি। ক্ষমতাবানেরা ভাবেন, মানুষ মেনে নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ভাবেন, মানুষ কিনবেই। প্রতিষ্ঠান ভাবে, মানুষ অপেক্ষা করবে। আর আমরা যারা লিখি, তারা বলি, বাংলার মানুষ অসীম ধৈর্যশীল।

—ধৈর্য কি দোষের?

—ধৈর্য মহৎ গুণ। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে বসবাস করার অভ্যাসকে ধৈর্য বলা বিপজ্জনক।

রাত আরও গভীর হয়েছে।

সে বলল,

—এবার ফোন রাখি।

—এত বছর পর ফোন করে আবার এত দ্রুত চলে যাবে?

—আমি তো কোনো সরকার নই যে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে পাঁচ বছর থাকব।

—তুমি কি আবার ফোন করবে?

—তুমি কি আবার অপেক্ষা করবে?

—আমি তো এখনো অপেক্ষা করছি।

ওপাশে কয়েক মুহূর্ত কোনো শব্দ নেই। তারপর সে বলল,

—একটি গল্প বলো। আগে বলতে।

আমি গল্প শুরু করলাম।

এক রাজ্যে বর্ষাকালে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। রাস্তাঘাট ডুবে গেল। মানুষের ঘরে পানি উঠল। রাজা মন্ত্রীকে বললেন, প্রজাদের জন্য দ্রুত ছাতার ব্যবস্থা করতে।

রাজকোষে ছাতা কেনার টাকা ছিল না। মন্ত্রী বুদ্ধি করে হাজার হাজার কাগজে সুন্দর ছাতার ছবি ছাপিয়ে মানুষের মধ্যে বিলি করলেন। প্রতিটি ছবির নিচে লেখা ছিল, ‘রাজা আপনার মাথার ওপর আছেন।’

মানুষ কাগজগুলো মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে শুরু করল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কাগজ ভিজে ছাতার ছবি মুছে গেল।

রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ ভেজা কাগজটির দিকে তাকিয়ে বললেন,

—ছাতাটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল। শুধু বৃষ্টিটা বুঝল না।

গল্প শেষ করে বললাম,

—গত সপ্তাহে আমাদের মাথার ওপরও অনেক ছাতার ছবি ছিল।

সে জানতে চাইল,

—আর বৃষ্টি?

—বৃষ্টি ছবির ভাষা বোঝে না।

(গত সপ্তাহ: ১৩–১৯ জুলাই ২০২৬)

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...