
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক বা ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা দ্রুত সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর নতুন বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ প্রদান এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশে পরিণত হতে পারবে।





