
আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ), রংপুর ব্যুরো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে ফ্যাসিবাদের দল হিসেবে আখ্যায়িত করা রাজনৈতিক অজ্ঞতা ও ভুল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি জনগণের ভোটে পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। এমন একটি দলকে ফ্যাসিবাদী বলা ইতিহাস, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর বাসটার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) নবনির্মিত বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। একবার নয়, পাঁচবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার গঠন করেছে। যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলে, তাদের হয় রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে, নয়তো তাদের মানসিকতা এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে তারা বাস্তবতাকে স্বীকার করতে চান না।”
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফ্যাসিবাদী তকমা দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। জনগণের রায় ও রাজনৈতিক ইতিহাসকে অস্বীকার করে এ ধরনের বক্তব্য কেবল বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে।
## জামায়াতের আমিরকে গঠনতন্ত্র পড়ার আহ্বান
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াতের আমিরের আগে নিজেদের দলের গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়া উচিত।তিনি বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত নিজেই কতটুকু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সে প্রশ্নও জনগণের সামনে রয়েছে।
## রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের সংবিধান যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, ঠিক সেই অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে। কাকে প্রার্থী করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত। সময় হলে দলই সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
## স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ভূমিকাই মুখ্য
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তিনি বলেন, প্রার্থীদের যোগ্যতা, নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। সরকার বা রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বকে সম্মান করে। তিনি জানান, সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
## কৃষিকে বাণিজ্যিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃষি খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক কৃষি অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
## বিআরডিবির নতুন বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন
এর আগে সকালে রংপুর বাসটার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) নবনির্মিত বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন এই বিভাগীয় কার্যালয় চালু হওয়ার ফলে রংপুর বিভাগের আট জেলার পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং মাঠপর্যায়ের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
## পল্লী মেলার উদ্বোধন ও স্টল পরিদর্শন
পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী পল্লী মেলার উদ্বোধন করেন। ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধনের পর তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, তাঁতপণ্য, গ্রামীণ প্রযুক্তি ও কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পরিদর্শন করেন তিনি। মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারও তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা দিতে কাজ করছে।





