
আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ), রংপুর ব্যুরো
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া এলাকায় ডালিয়া ক্যানেলের ধারে একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির পচাগলা মরদেহের মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে খুলি ও হাড় উদ্ধার করলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরের দিকে কুঠিপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ডালিয়া ক্যানেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ টের পান। প্রথমে তারা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও কিছুক্ষণ পর দুর্গন্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করলে উৎস খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাটক্ষেতের পাশের ঝোপঝাড়ের ভেতরে গিয়ে তারা পচাগলা মরদেহের মাথার খুলি, শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় এবং মাংসপচা কিছু অবশিষ্টাংশ দেখতে পান। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবিও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মরদেহটি দীর্ঘদিন ধরে ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকায় সেটি প্রায় সম্পূর্ণ পচে-গলে কঙ্কালসদৃশ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থলেই নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স, শারীরিক গঠন কিংবা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়নি। এমনকি মরদেহের অবস্থা এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শনাক্ত করার মতো সুস্পষ্ট আলামতও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অনেকে ধারণা করছেন, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহটি গোপনে এনে পাটক্ষেতসংলগ্ন ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হতে পারে। তাদের মতে, ঘটনাস্থলটি তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে এমন স্থান বেছে নিয়ে থাকতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়ে পরে মরদেহ এখানে এসে পড়েছে—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা মাথার খুলি ও হাড়ের অংশগুলো দেখে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবশিষ্টাংশ দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, মরদেহটি বেশ কিছুদিন আগের। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এটি কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ কি না, নাকি পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়ে কেউ এখানে পড়ে ছিলেন।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের কাজ চালায়। ঘটনাস্থলের পাশে পড়ে থাকা লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সম্ভাব্য সময়, সন্দেহজনক কোনো চলাচল ছিল কি না এবং সম্প্রতি এলাকায় কেউ নিখোঁজ হয়েছেন কি না—এসব তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি বেশ কিছুদিন আগের। আমরা নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের অবশিষ্টাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি রংপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় সম্প্রতি কোনো ব্যক্তি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। উদ্ধার হওয়া পোশাকের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এমন নির্জন স্থানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির পচাগলা মরদেহের খুলি ও হাড় উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত কেউ থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।





