বর্ষার শুরুতেই ড্রেনে বাঁধ, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবল মুজগুন্নী

Date:

spot_img

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নগরীর সব ড্রেন ও খাল থেকে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনে প্রধান ড্রেনে বাঁধ দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এর ফলে বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে হওয়া স্বল্প বৃষ্টিতেই মুজগুন্নী আবাসিক এলাকা ও সংলগ্ন মহাসড়কে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১২ মিলিমিটার, দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ২০ মিলিমিটার এবং বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেন বন্ধ থাকায় মাত্র ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই মুজগুন্নী মহাসড়কের একাংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আশপাশের বহু বাড়ির নিচতলায় পানি প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। কেসিসির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছও দীর্ঘক্ষণ পানিতে নিমজ্জিত ছিল।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ প্রধান ড্রেনে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এই কাজের সুবিধার্থে ড্রেনে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে পুরো এলাকার বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল থেকেই জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়লে বিষয়টি কেসিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে দুপুর ১২টার দিকে অস্থায়ী বাঁধ কেটে দেওয়া হলে পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে শুরু করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেসিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী এফ এম ফয়সাল বলেন, ঠিকাদার নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় ড্রেনটি বন্ধ ছিল। পরে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্ষাকালে আর এ ধরনের কাজ করা হবে না।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর অন্যান্য ড্রেনের বাঁধ আগেই অপসারণ করা হয়েছিল। এই ড্রেনটি বন্ধ রেখে কাজ করা ঠিক হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নগরীর কোথাও আর ড্রেন বন্ধ রেখে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার সময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেন বন্ধ রেখে উন্নয়নকাজ চালানো চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...