
কাশিয়ানী প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সরকারের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটি স্থানীয় একটি বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার রামদিয়া বাজারে অবস্থিত পলাশ বেকারি থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য পাউরুটি সরবরাহ করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেকারির উৎপাদন কক্ষে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং খাদ্য উৎপাদনের সময় কর্মীদের হাতে হ্যান্ড গ্লাভস বা অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এছাড়া প্রস্তুত করা পাউরুটি মেঝেতে স্তূপ করে রেখে পরে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
রামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, “বেকারির পরিবেশ দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। এসব খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে পলাশ বেকারির মালিক ফুল মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বেকারির উপস্থিত কোনো কর্মীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কাশিয়ানী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার বলেন, “আমরা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।আমরা আমাদের বাচ্চাদের খাবার স্বাস্থ্যসম্মত চাই”।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রস্তুত করা খাদ্য গ্রহণ করলে খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মত দেন।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বেকারিটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।





