
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ৭নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার ভয়াবহ বিস্তার এবং যুবসমাজ ধ্বংসের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। মাদক সিন্ডিকেটের হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবার সরাসরি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মৌয়াগাছ হিন্দুপাড়া এলাকার মৃত সুধীর চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী সুধাংশু চন্দ্র রায় (৪২) দীর্ঘ ১ যুগ ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এই মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী ও ‘সেল্টার’ হিসেবে কাজ করছেন মুচিরহাট এলাকার মোঃ আবেদ আলী (৫৫)। এই দুই জনের প্রত্যক্ষ মদদে এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক দ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চলছে। ফলে এলাকার স্কুল-কলেজগামী ছাত্র ও উদীয়মান যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। একই সাথে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে গত বছরের ১৬ অক্টোবর মাদকসহ সুধাংশুকে হাতেনাতে আটক করেছিল এলাকাবাসী। সে সময় সে আর কখনো মাদক ব্যবসা করবে না এবং ভালো পথে চলবে বলে ক্ষমা চায় ও মুচলেকা দেয়। তার এই আশ্বাসে এলাকাবাসী সে যাত্রায় তাকে ছেড়ে দিলেও কিছুদিন পর সে আবারও পুরোনো অপরাধ চক্র সক্রিয় করে তোলে। বর্তমানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলে বা বাধা দিলে বিবাদী ও তাদের সহযোগীরা সাধারণ মানুষকে নানা রকম ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। ফলে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক চক্রের কবল থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবেদ আলী বলেন, তারা এলাকায় মব, কিশোর গ্যাং তৈরি করার চেষ্টা করছে। এমনকি তাদের সাথে কয়েকজন ছেলে আছে তারাও মাদক সেবন করে। তারা তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। আবেদ আলী বলেন তারা সুধাংশু চন্দ্র রায়ের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার কথা বলেছে। যা এলাকায় একটা ভয়ের ত্রাস তৈরি করেছে। একজন মাদক ব্যবসায়ী হোক আর যে ধরনের লোক হোক সে যদি ভালো হতে চায় তাকে সুযোগ দেয়া দরকার। সুধাংশু চন্দ্র রায়ের মাদক বিক্রির কথা অভিযুক্ত আবেদ আলী কে বললে তিনি বলেন সে যদি মাদক ছাড়ার সুযোগ দেয়ার পরও সে যদি পুনরায় মাদক ক্রয় বিক্রয় এবং সেবন করেন আমি তাকে নিজেই আইনের হাতে তুলে দেব। পূর্বে মুছলেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কই আমিও তো এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি আমাকে তো বলে নেই তারা, তারা এটা কিভাবে কি করেছে আমি জানিনা। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময়ই ‘জিরো টলারেন্স’। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





