
রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলিয়ায়েভ হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামলার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তাতারস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। নিঝনেকামস্কে অবস্থিত তানেকো তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তানেকো রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার। দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই স্থাপনাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে একটি শিল্প স্থাপনার ওপর থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ভিডিওগুলোকে তেল শোধনাগারের বলে দাবি করা হলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর তানেকো শোধনাগারের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি। এর আগে চলতি বছরের জুনের শুরুতেও শোধনাগারটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
তাতনেফত কোম্পানির মালিকানাধীন তানেকো রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল শোধনাগার। ২০২৪ সালে সেখানে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। একই বছরে প্রায় ২৭ লাখ টন পেট্রল এবং ৮৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা হয়েছে। ফলে এই স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে হামলায় হতাহতের ঘটনায় তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে শোক পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র বেলিয়ায়েভ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এসব হামলার ফলে দেশটির কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পেট্রলসহ বিভিন্ন জ্বালানি সংগ্রহে মানুষের ভোগান্তির খবরও পাওয়া গেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, হামলার কারণে তৈরি হওয়া বেশির ভাগ জ্বালানি সংকট পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিঝনেকামস্কে সর্বশেষ হামলার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।





