
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক তথ্য ও নিবন্ধিত সমিতির নথিপত্র বাইরে সরবরাহের অভিযোগে মো. আজিজুর রহমান নামে এক কর্মচারীকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আজিজুর রহমান সমবায় কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আজিজুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য, নিবন্ধিত সমিতির কাগজপত্র, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত নথি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরের মোটরসাইকেলচালক হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান স্বপনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেন-সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড থাকার কথাও তাঁরা জানিয়েছেন। ঘুস গ্রহণের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আজিজুর রহমান । এদিকে নাচোল উপজেলার বিভিন্ন সমবায় ও মৎস্য সমিতির সদস্য তালিকা, নিবন্ধন এবং কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সমিতির সদস্য তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম রয়েছে। জাল স্বাক্ষর করে ভুয়া নির্বাচন বা রেজুলেশন দেখিয়ে কমিটি গঠন করা হয় । কিছু সমিতির সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট উপ-আইন অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সমিতির নিবন্ধন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, সমিতিগুলোর সদস্য তালিকা, নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও আর্থিক হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। এ ঘটনায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দের ভূমিকা ও দপ্তরের তদারকি নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।
তাঁদের বক্তব্য, সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি সদস্য তালিকা যাচাই, নিবন্ধনের বৈধতা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না। ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, নাচোল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ তাঁদের জানানো হলে আজিজুর রহমানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন বলেন, “সমবায় কার্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয় তথ্য বাইরে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাঁকে আটক করে ইউএনওর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, “স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সমবায় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বদলির জন্য ইউএনওকে অবহিত করেছি।”
নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বলেন, “সমবায় কর্মকর্তা ও কর্মচারী আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও তথ্য সরবরাহের অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় লোকজন এবং বিএনপি নেতারা আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সমবায় সমিতি আইন, ২০০১-এর ৪৯ ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে সমিতির কার্যক্রম তদন্তের বিধান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর সদস্য তালিকা, নিবন্ধন নথি, আর্থিক হিসাব ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের তদারকি কার্যক্রমও পর্যালোচনা করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





