
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর অভিযোগসহ পাঁচ নারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কিউল। পরবর্তী সময়ে ওই হোটেলেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তৈরি প্রতিবেদনটিতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ এবং তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের বিবরণ রয়েছে। এতে কিউলসহ পাঁচ নারীর অভিযোগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ট্রাম্প তাঁদের ধর্ষণ অথবা যৌন হেনস্থা করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক দফায় সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, তাঁর বয়স যখন ২৪ বছর, তখন প্লাজা হোটেলে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।
কিউলের অভিযোগ, ট্রাম্প তাঁকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখাশোনা করব।’
কিউলের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টিন তাঁর কাছে আসেন। নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ পরিচয় দিয়ে এপস্টিন তাঁকে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাঁকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও তা সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয়। হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।





