গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে

Date:

spot_img

হাইকোর্টের রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। এ কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি। সংক্ষিপ্ত রায়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন খারিজ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাছে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি বহাল থাকল।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা।

রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তারা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করবেন।

বিরোধের শুরু যেভাবে

গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে এনবিআরের এ বিরোধের সূত্রপাত বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবি করা হয়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে, তখনও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, ঢাকা কর অঞ্চল ১৪ থেকে এ বিষয়ে পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়। কর কর্তৃপক্ষের সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে যায়।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষের বক্তব্য হলো, গ্রামীণফোন থেকে পাওয়া লভ্যাংশ বা মুনাফার অর্থ দেওয়ার সময়ই উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়েছিল। ফলে একই অর্থের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত কর আরোপ করা যায় কি না, সেটিই তাদের আইনি চ্যালেঞ্জের মূল বিষয়।

২০২৪ সালের রায় পরে প্রত্যাহার

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে, একই কর বিরোধে হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ করেছিলেন। ওই রায়ের ফলে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের পথ খুলে গিয়েছিল।

এর পরদিন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

এর দুই মাস পর, ৩ অক্টোবর ২০২৪, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে আগের রায় প্রত্যাহার করেন।

রায় লেখার সময় বেঞ্চের একজন বিচারপতির নজরে আসে, তিনি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্ত ছিলেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে রায়টি প্রত্যাহার করা হয় এবং নতুন করে শুনানির জন্য মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

এরপর নতুন বেঞ্চে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এগোয়।

কর মওকুফের দাবি নাকচ করেছিলেন আইনজীবী

২০২৬ সালের জুলাইয়ে, নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়, বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন তখন তা প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, কর মওকুফ বা মামলা প্রত্যাহারের খবর ভিত্তিহীন এবং মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবারের রায়ের মাধ্যমে সেই বিচারাধীন মামলায় এনবিআরের দাবি আবারও বহাল হলো।

ইউনূস এখন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের পর থেকে গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি বর্তমানে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যানও নন।

তবে কর বিরোধটির উৎপত্তি তাঁর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সময়কার হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে আলোচিত হয়ে আসছে।

এখন মামলাটির পরবর্তী ধাপ হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তারা লিভ টু আপিল করবেন।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বাগেরহাট প্রতিনিধি পদ্মা সেতু চালুর পর বাগেরহাট থেকে দূরপাল্লার বাস...

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার, ১ জেলে কারাগারে

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি সুন্দরবনের খাশিটানা বন টহল ফাঁড়ির অধিনস্থ...

‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে’

তারাগঞ্জে ৩৫ বছরের পুরোনো সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে ২৫ হাজার...

‎তারাগঞ্জে ৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

‎ ‎রংপুর ব্যুরো ‎ ‎রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে...