আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
রাজাদের কাঁদতে নেই। অন্তত ইতিহাস আমাদের তাই শেখায়। রাজারা জেতেন, মুকুট পরেন, হাত নেড়ে জনতার অভিবাদন নেন। কিন্তু ১৯৫৮ সালের ২৯ জুন স্টকহোমের রোসুন্ডা স্টেডিয়ামে ফুটবলের এক রাজাকে কাঁদতে দেখেছিল পৃথিবী।
তখন অবশ্য তিনি রাজা নন। মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোর।
ম্যাচ শেষ হয়েছে। ব্রাজিল ৫-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক সুইডেনকে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে দেশটি। চারদিকে উল্লাস, পতাকা, আলিঙ্গন। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই মাঠের ঘাসে মুখ লুকিয়ে কাঁদছিল এক ছেলেটি।
সেই ছেলেটির নাম পেলে।
অনেকে ভেবেছিল আনন্দের কান্না। আসলে তা-ই ছিল। কিন্তু শুধু আনন্দ নয়। কয়েক মাস আগেও যে ছেলেটি হাঁটুর চোট নিয়ে বিশ্বকাপে আসা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ছিল, যে ছেলেটিকে নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল, সে হঠাৎ করে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের নায়ক হয়ে উঠেছে। এত বড় স্বপ্ন একসঙ্গে সত্যি হয়ে গেলে মানুষের চোখে জল আসতেই পারে।
ফাইনালে পেলে করেছিলেন দুটি গোল। এর মধ্যে একটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর গোলগুলোর একটি বলে বিবেচিত হয়। বলটিকে মাথার ওপর তুলে সুইডিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভলিতে জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই গোল নয়, পৃথিবী মনে রেখেছে অন্য একটি দৃশ্য।
সতীর্থরা যখন তাকে কাঁধে তুলে নিচ্ছিলেন, তখনও পেলের চোখ ভেজা। আনন্দ, স্বস্তি, অবিশ্বাস আর কৃতজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার।
বহু বছর পরে পেলে বলেছিলেন, জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি ছিল সেই দিন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য ট্রফি উঁচু হয়েছে, অসংখ্য অধিনায়ক হাসিমুখে ছবি তুলেছেন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে মানবিক ছবিগুলোর একটি হয়তো সেই কিশোরের কান্না।
কারণ সেদিন পৃথিবী শুধু একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দেখেনি।
দেখেছিল এক স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
আর সেদিনই জন্ম নিয়েছিল ফুটবলের এক রাজা।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬