নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুর অঞ্চলে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই উঠেছে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর ক্ষুদ্রসেচ উইংয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন আলতাফের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই কর্মকর্তা তার সরকারি বেতনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। শুধু ফ্ল্যাট কেনাই নয়, সেই ফ্ল্যাটগুলোর ইন্টেরিয়র ডিজাইনে বিলাসিতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন তিনি, যেখানে ব্যয় করা হয়েছে আরও প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমেই তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। যেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের প্রধান উৎস তার নির্ধারিত বেতন-ভাতা, সেখানে এমন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার বাৎসরিক আয়কর নথিতে (IT-11B) এই সম্পদের সঠিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এছাড়া, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা তার আয়ের উৎস প্রদর্শনে বাধ্য।
বিষয়টি নিয়ে বিএডিসি রংপুর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপ্তরের একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, হুসাইন আলতাফের বিলাসী জীবনযাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই দপ্তরের ভেতরে আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্নীতি দমন নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে আয়কর রিটার্ন এবং দপ্তরের নিয়মিত অডিট হওয়া প্রয়োজন। যদি এই বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে না পারেন, তবে এটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় কঠোর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬