
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
ফুটবলে লাল কার্ড সাধারণত খেলোয়াড়রাই দেখে। কখনও কোচ। কখনও বেঞ্চে বসা কর্মকর্তারা।
কিন্তু রেফারি?
রেফারিকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে এমন ঘটনা কি সম্ভব?
বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবার হয়েছিল।
ঘটনাটি ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে।
ক্রোয়েশিয়া বনাম অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ম্যাচটি পরিচালনা করছিলেন ইংল্যান্ডের রেফারি গ্রাহাম পোল।
খেলা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জসিপ সিমিউনিক প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন।
সবকিছু স্বাভাবিক।
এরপর ৯০ মিনিটের দিকে তিনি আবার একটি ফাউল করেন। রেফারি আবার হলুদ কার্ড দেখান।
দর্শকরা ভাবলেন, এবার নিশ্চয়ই লাল কার্ড আসবে।
কিন্তু না।
খেলা চলতে থাকে।
রেফারি ভুলে গিয়েছিলেন যে একই খেলোয়াড়কে তিনি আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন।
কয়েক মিনিট পরে আবার ফাউল।
এবার তৃতীয়বারের মতো হলুদ কার্ড বের করলেন তিনি।
তারপর বুঝতে পারলেন বিপদ।
তিনটি হলুদ কার্ড দেখানোর পর অবশেষে লাল কার্ড!
স্টেডিয়াম হতবাক।
টেলিভিশন ধারাভাষ্যকাররা হতবাক।
খেলোয়াড়রাও অবাক।
বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে এমন ভুল কেউ কল্পনাও করেনি।
পরে জানা যায়, শিমুনিচের অস্ট্রেলীয় উচ্চারণে নাম ডাকার কারণে রেফারি নোট নেওয়ার সময় বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কারণ যাই হোক, ভুলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত রেফারিং ভুল হিসেবে থেকে গেছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদপত্রগুলোতে একটি মজার কথা ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ রেফারিকে লাল কার্ড দেখায়নি।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক মনে মনে দেখিয়েছিল।
কয়েক মাস পর আর কখনও বিশ্বকাপে রেফারিং করেননি গ্রাহাম পোল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড় ভুলের জন্য বিখ্যাত হয়েছেন।
কিন্তু খুব কম রেফারিই আছেন, যাদের নাম শুনলেই মানুষ তিনটি হলুদ কার্ডের কথা মনে করে।
আর সেই কারণেই ২০০৬ সালের সেই রাত বিশ্বকাপের সবচেয়ে অদ্ভুত গল্পগুলোর একটি।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬