
নাজমুল ইসলাম হৃদয়
হবিগঞ্জের বাহুবলে পাঁচ গ্রামবাসীর মাঝে দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে ৪ টি গ্রাম পুরুষ-শূন্য হয়ে পড়েছে। পুরুষশূন্য গ্রামের বাড়ি ঘরে নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেক বাড়িঘরে ঝুলছে তালা। নীরব-নিস্তব্ধ রয়েছে মহাসড়ক ঘেঁষা ডুবাঐ বাজার।
এদিকে সংঘর্ষে নিহত আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে শেলু মিয়া (৪৫) ও গাবরু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (২৫) এর লাশ হবিগঞ্জ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে জানাজার পর দাফন সম্পূর্ন করা হয়। এছাড়া এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ হতে সতর্কমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে বাহুবল মডেল থানার ওসি ( তদন্ত ) মো. ইকতার মিয়া জানান। তিনি বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের সাথে পার্শ্ববর্তী আব্দাফৌজদা, খাসেরগাও, মুগকান্দি ও হারিছপুর গ্রামবাসীর মাঝে দুই দফা সংঘর্ষে দুই জন নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সোমবার বেলা একটার দিকে আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পার্শ্ববর্তী খাসেরগাও, হারিছপুর ও মুগকান্দি গ্রামের লোকজন আব্দাফৌজদা গ্রামের পক্ষ নিলে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে হঠাৎ উভয় পক্ষের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে শিলু মিয়া (৪৫) গুরুতর আহত হলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টায় একই গ্রামের গাবরু মিয়ার ছেলে হেলালের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন , অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল রায় জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাহুবলের ঐতিহ্য ও সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এমন সমস্যা নিরসনে প্রত্যেক ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসন, বাহুবলের পক্ষ হতে 'সম্প্রীতি সমাবেশ' এর আয়োজন করা হবে। স্থানীয় ইমাম, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে এই সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬