
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতোয়ার রহমানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনেও চাকরি না হওয়া এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অভিযোগকারী উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে জীবিকার তাগিদে একটি চাকরির সন্ধান করছিলেন। এ সময় হরিপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের কথা বলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতোয়ার রহমান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল রাতে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে টাকার পরিমাণ কমিয়ে দুই লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রথম ধাপে তিনি ২০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। এভাবে মোট দুই লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। অর্থ লেনদেনের সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, টাকা লেনদেনের পুরো ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, যা প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব। অভিযোগকারীর দাবি, তার ছোট ভাই গোপনে ভিডিওটি ধারণ করেন। এছাড়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একটি ঘরের খাটের ওপর বসে অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি এলাকায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে কোনো বৈধ পরিচালনা কমিটি নেই এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এককভাবে চাকরি দেওয়ার কোনো আইনগত ক্ষমতাও নেই। বিষয়টি জানার পর তিনি টাকা ফেরতের দাবি জানান। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে চাকরি হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি কিংবা অর্থ ফেরত—কোনোটিই তিনি পাননি।
ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছি। চাকরির আশায় সবকিছু দিয়েছিলাম। এখন চাকরি হয়নি, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে ঘুরছি। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা ফেরত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হরিপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতোয়ার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আতোয়ার রহমান অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন। তাদের দাবি, তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নানা অভিযোগের জন্ম দিয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, পূর্বের বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
শিক্ষার্থী অভিভাবক, সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে না, বরং শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন থাকায় প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬