
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ব্রাজিলের ফুটবলাররা এখন এমন এক স্মার্ট ভেস্ট পরে খেলেন, যা বলে দিতে পারে কে কত দৌড়াল, কত দ্রুত দৌড়াল, কখন ক্লান্ত হলো, এমনকি শরীর কখন বিশ্রাম চাইছে তাও।
খবরটি পড়ে প্রথমেই মনে হলো এই ভেস্ট যদি বাংলাদেশে চালু হতো, তাহলে অনেকেরই শান্তিতে ঘুমানো কঠিন হয়ে যেত।
অফিস থেকে বাসায় ফিরে স্বামী বলছেন, “আজ খুব কাজ করেছি। মাথা আর চলছে না।”
স্ত্রী সহানুভূতি দেখানোর আগেই ভেস্ট রিপোর্ট পাঠিয়ে দিল—
“তথ্য আংশিক সঠিক। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চা। ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ফেসবুক। দুপুরে এক ঘণ্টা আড্ডা। প্রকৃত কাজের সময় ৪৭ মিনিট।”
স্বামী তখন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজতে ব্যস্ত।
ছাত্রদের অবস্থাও খুব একটা ভালো হতো না।
ছেলে বলছে, “মা, সারারাত পড়েছি।”
ভেস্ট জানাচ্ছে, “রাত ১২টার পর থেকে ৩ ঘণ্টা ভিডিও দেখা হয়েছে। পড়াশোনা হয়েছে মোট ২২ মিনিট।”
মা তখন নতুন প্রযুক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
রাজনীতিবিদদের জন্যও সময়টা সহজ হতো না।
নেতা বলছেন, “সারাদিন জনগণের মাঝে ছিলাম।”
ভেস্ট বলছে, “জনগণের মাঝে ছিলেন ১৭ মিনিট। বাকি সময় এসি কক্ষে।”
অনেক বক্তৃতা হয়তো সেখানেই সংক্ষিপ্ত হয়ে যেত।
ফুটবলের মাঠে আরও মজার ঘটনা ঘটত।
কোচ চিৎকার করছেন, “আরও দৌড়াও!”
খেলোয়াড় বলছে, “স্যার, দৌড়াচ্ছি তো!”
ভেস্ট বলছে, “গত সাত মিনিটে মোট অগ্রগতি ১৪ মিটার।”
কোচ চুপ। খেলোয়াড়ও চুপ।
সবচেয়ে বড় বিপদে পড়ত আমাদের চিরন্তন অজুহাতগুলো।
“রাস্তায় জ্যাম ছিল।”
“মোবাইলে চার্জ ছিল না।”
“অনেক ব্যস্ত ছিলাম।”
“খুব খাটাখাটনি গেছে।”
প্রতিটি বক্তব্যের পাশে ভেস্ট ছোট্ট করে লিখে দিত “যাচাই চলছে।”
তবে এই গল্পের আসল মজাটা অন্য জায়গায়।
ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা এক খেলোয়াড়কে দেখে অবাক হয়েছিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, তিনি অন্যদের তুলনায় অনেক কম দৌড়ান। কম্পিউটারের হিসাবে তিনি সাধারণ মানের খেলোয়াড়।
কিন্তু ভিডিও দেখে দেখা গেল, তিনি সব সময় ঠিক জায়গায় থাকেন। তাই অন্যদের মতো এত দৌড়ানোর প্রয়োজনই হয় না।
সেখানেই প্রযুক্তির সীমা।
একটি ভেস্ট বলতে পারে আপনি কতটা দৌড়েছেন। কিন্তু কেন দৌড়েছেন, কখন দৌড়েছেন, কিংবা আদৌ দৌড়ানোর দরকার ছিল কি না, সেটা বলতে পারে না।
আমাদের জীবনেও বোধহয় তাই।
কেউ সারাদিন ব্যস্ত থেকেও তেমন কিছু করেন না। আবার কেউ অল্প সময়ে এমন কাজ করে ফেলেন, যা অন্যরা সারাদিনেও পারেন না।
তাই স্মার্ট ভেস্ট যতই উন্নত হোক, মানুষের বিচারবুদ্ধির সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা এখনো শুরুই হয়নি।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত।
বাংলাদেশে এমন ভেস্ট চালু হলে গোপন কথাটি আর সত্যিই রবে না গোপনে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬