খুলনা থেকে এম রোমানিয়া
প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে খুলনায় আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সময় কর্মসংস্থান, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। এসব প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাকিয়া সুলতানা, কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় তামাকবিরোধী কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সর্বাধিক সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসানকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাক ব্যবহারের কারণে এক লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮ জনের মৃত্যুর সমান। দেশে প্রায় চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে প্রায় এক কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপায়ী। এছাড়া প্রায় আড়াই কোটি মানুষ জর্দা, গুল, খৈনী ও সাদাপাতার মতো ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং চার কোটিরও বেশি মানুষ নিজ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ৪৬ শতাংশই তামাক ব্যবহারকারী এবং মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৫১ শতাংশের জন্য পরোক্ষ ধূমপান দায়ী।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬